ফ্রান্স বনাম মরক্কো বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল ঘিরে উত্তেজনার পারদ ছিল তুঙ্গে। চার বছর আগে সেমিফাইনালে ফরাসিদের কাছে হারের বদলা নেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল মরক্কো। কিন্তু ইতিহাস আর বদলানো হল না। কিলিয়ান এমবাপে ও উসমান দেম্বেলের দ্বিতীয়ার্ধের দুই গোলে ২-০ ব্যবধানে জিতে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করল দিদিয়ের দেশঁর দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের রাশ নিজেদের হাতে তুলে নেয় ফ্রান্স। এমবাপে, উসমান দেম্বেলে, মাইকেল অলিসে এবং দেজিরে দুয়ের দ্রুতগতির আক্রমণে একাধিকবার চাপে পড়ে মরক্কোর রক্ষণ। তবে গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনো একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে ম্যাচে দলকে টিকিয়ে রাখেন।
২৫ মিনিটে বড় সুযোগ পায় ফ্রান্স। আশরাফ হাকিমির কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে এমবাপের উদ্দেশে পাস বাড়ান দেজিরে দুয়ে। বক্সে ঢোকার মুখে নৌসের মাজরাউইয়ের ফাউলে পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। দীর্ঘক্ষণ ভিএআর পর্যবেক্ষণের পর সিদ্ধান্ত বহাল থাকলেও স্পট-কিক থেকে এমবাপের নেওয়া শট অসাধারণ দক্ষতায় আটকে দেন বোনো।
এরপরও একের পর এক সুযোগ তৈরি করে ফরাসিরা। দেম্বেলের কয়েকটি প্রচেষ্টা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়, আবার দেজিরে দুয়ের শটও রুখে দেন বোনো। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে লুকাস ডিগনের দূরপাল্লার শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। অন্যদিকে কাউন্টার অ্যাটাকে ভরসা রাখা মরক্কো ব্রাহিম দিয়াজ ও আশরাফ হাকিমির মাধ্যমে কয়েকটি আক্রমণ গড়লেও উইলিয়াম সালিবার নেতৃত্বে ফ্রান্সের রক্ষণ ছিল প্রায় অভেদ্য। ৬৩ শতাংশ বলের দখল রেখেও প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি ফ্রান্স।
বিরতির পর ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। আক্রমণের গতি আরও বাড়িয়ে দেয় ‘লে ব্লুজ’। ৬০ মিনিটে তিন ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে এগিয়ে এসে বক্সের বাইরে থেকে দুরন্ত বাঁক খাওয়া শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন কিলিয়ান এমবাপে। চলতি বিশ্বকাপে এটি তাঁর অষ্টম গোল। পাশাপাশি বিশ্বকাপে মোট ২০ বার স্কোরশিটে নাম লেখানোর নজিরও গড়েন ফরাসি অধিনায়ক।
প্রথম গোলের ধাক্কা সামলানোর আগেই দ্বিতীয় আঘাত আসে। ৬৬ মিনিটে মাইকেল অলিসের পাস থেকে এমবাপের নিখুঁত ওয়ান-টাচ সেট-আপ কাজে লাগিয়ে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে নিচু শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উসমান দেম্বেলে। চলতি বিশ্বকাপে এটি তাঁর পঞ্চম গোল।
৭৭ মিনিটে সেমিফাইনালের কথা মাথায় রেখে এমবাপেকে তুলে নেন কোচ দিদিয়ের দেশঁ। শেষদিকে মরক্কো পাল্টা আক্রমণে কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও আশরাফ হাকিমি, আজেদিন উনাহি কিংবা এল আইনাউই কেউই ফরাসি রক্ষণ ভাঙতে পারেননি। তবে ইয়াসিন বোনোর দুর্দান্ত গোলকিপিং না থাকলে ব্যবধান আরও বড় হতে পারত।
এই জয়ের ফলে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে মরক্কোকে হারিয়ে শেষ চারে উঠল ফ্রান্স। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো এবারও ২-০ ব্যবধানে জয় পেল ‘লে ব্লুজ’। সেমিফাইনালে এখন ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ হবে স্পেন অথবা বেলজিয়াম। এমবাপেদের বর্তমান ছন্দ দেখে বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবেই উঠে আসছে ফরাসি দল।



