পড়ুয়া বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, বন্ধ ৫০০ স্কুল! রাজপথে ৩ লক্ষ আন্দোলনকারী

স্কুলের পরিকাঠামো, অতিরিক্ত পড়ুয়ার চাপ ও শিক্ষক সংকটের প্রতিবাদে ফ্রান্সে চলছে ছাত্র আন্দোলন। মঙ্গলবার দেশজুড়ে আরও বড় বিক্ষোভের ডাক ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ফ্রান্সে পড়ুয়াদের বিক্ষোভ ক্রমেই আরও বড় আকার নিচ্ছে। স্কুলের পরিকাঠামোর বেহাল দশা, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত পড়ুয়ার চাপ এবং শিক্ষক সংকটের প্রতিবাদে দেশজুড়ে আন্দোলনে নেমেছেন হাজার হাজার পড়ুয়া। দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়ানো এই বিক্ষোভের জেরে সোমবারই প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০টি হাই স্কুল পুরোপুরি অথবা আংশিকভাবে বন্ধ ছিল বলে ফরাসি শিক্ষামন্ত্রীর তরফে জানানো হয়েছে।

এর মধ্যেই মঙ্গলবার দেশজুড়ে আরও বড় কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ছাত্র সংগঠনগুলি। তার আগে সোমবার ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরের রাস্তায় প্রায় ৩ লক্ষ আন্দোলনকারী নেমেছিলেন বলে দেওয়া হিসাবে দাবি করা হয়েছে। ফলে মঙ্গলবারের কর্মসূচিকে ঘিরে প্রশাসনের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

কী নিয়ে শুরু এই বিক্ষোভ?

প্যারিসের উপকণ্ঠের একটি হাই স্কুলে শিক্ষক সংকটকে কেন্দ্র করে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে প্রথম বিক্ষোভের সূত্রপাত। পরে স্কুলের সামগ্রিক পরিকাঠামো, শ্রেণিকক্ষে পড়ুয়ার সংখ্যা এবং পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাবের মতো একাধিক বিষয় আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়।

ক্রমে সেই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। একের পর এক স্কুলে বিক্ষোভ, অবরোধ এবং পঠনপাঠন বন্ধের ঘটনা সামনে আসতে থাকে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে দেশের প্রায় ৩,৭০০টি হাই স্কুলের মধ্যে সোমবার ৪০০ থেকে ৫০০টি স্কুল পুরোপুরি বা আংশিকভাবে বন্ধ ছিল বলে জানিয়েছেন ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার্দ জেফ্রে।

শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে আন্দোলনের পরিধি বাড়তে থাকায় শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে।

বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি শুধু শিক্ষা সংক্রান্ত আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। গত সোমবার থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার তরুণ-তরুণীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিক্ষোভ চলাকালীন বহু মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষও রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি ইউরো হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

অর্থাৎ, স্কুলের সমস্যা সমাধানের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন প্রশাসনের কাছে আইনশৃঙ্খলারও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের পথে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন। প্যারিসের পুলিশ প্রধান প্যাট্রিস ফোর শনিবার একটি খোলা চিঠিতে বলেন, আন্দোলনের সূচনাকারীদের হাতে এখন আর বিক্ষোভের পুরো নিয়ন্ত্রণ নেই। পড়ুয়াদের অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানোর আবেদনও করেন তিনি।

তবে পুলিশের এই আবেদন সত্ত্বেও ছাত্র সংগঠনগুলি মঙ্গলবার দেশজুড়ে বড় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। ফলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নিরাপত্তা আধিকারিকদের আশঙ্কা, বিশেষ করে প্যারিসের কেন্দ্রস্থলে বিক্ষোভের সময় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে। অতি-বাম এবং নৈরাজ্যবাদী গোষ্ঠীগুলি আন্দোলনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

এখন নজর মঙ্গলবারের কর্মসূচির দিকে। ছাত্রদের মূল দাবি স্কুলের শিক্ষা পরিকাঠামো ও শিক্ষক সংকটের সমাধান হলেও আন্দোলনের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়টিও ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রশাসনের সামনে তাই একই সঙ্গে পড়ুয়াদের দাবির মোকাবিলা এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন