নজরবন্দি ব্যুরো: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যে রাতে প্রথম বর্ষের ছাত্রের মৃত্যু হয়েছিল, সেই রাতেই পর পর চারবার হস্টেলের জেনারেল বডির মিটিং ডাকা হয়! সেই বৈঠকের নেতৃত্বে ছিলেন বেশ কয়েকজন প্রাক্তনী এনং সিনিয়র। সেখানেই পুলিশি জেরায় কী ধরনের প্রশ্ন হতে পারে এবং তার উত্তর কী হবে সবটাই সবাইকে শেখানো হয়েছিল। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এবার এরকমই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানতে পারল পুলিশ।
আরও পড়ুন: ব্রাত্যকে নিয়ে একসঙ্গে যাদবপুরে যেতে চান সুভাষ, যাবেন শিক্ষামন্ত্রী?
যাদবপুরকাণ্ডে ইতিমধ্যেই মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সন্দেহ, আরও অনেকেই গা ঢাকা দিয়েছেন। একটি স্ক্রিনশট ভাইরাল হয়েছে, সেখানেও উঠে এসেছে অনেকের নাম। যদিও সেই স্ক্রিনশটের সত্যতা যাচাই করেনি ‘নজরবন্দি’। তবে, ঘটনার পরের দিনই অনেক সিনিয়র এবং প্রাক্তনীরা হস্টেল ছেড়েছিলেন বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। এখন জানা যাচ্ছে, তথ্য প্রমাণ লোপাটের স্বার্থে সেই রাতেই পর পর চারবার জেনারেল বডির মিটিং ডাকা হয়। মূল দায়িত্বে ছিলেন সিনিয়র এবং প্রাক্তনীরা। সেখানে জুনিয়র ছাত্রদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় পুলিশি জেরার। এই বিষয়টি পুলিশ বুঝতে পারে কারণ ধৃতদের সবার বয়ানই এক! তখনই পুলিশের সন্দেহ হয়, এঁদের প্রত্যেককে নিশ্চয়ই এই কথা বলার জন্য শেখানো হয়েছিল।

যাদবপুর হস্টেলের নিরাপত্তারক্ষী বলেছেন, সেই রাতে গেট বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয় তাঁকে। নির্দেশ আসে সিনিয়রদের তরফ থেকে। পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমকে ঢুকতে নিষেধ করা হয়। সঙ্গে এও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরেই সমাধান করা হবে। ঠিক কী বলেছেন তিনি?

নিরাপত্তারক্ষী জানিয়েছেন, ‘‘হস্টেলের দু’টি গেট রয়েছে। একটি ছোট গেট। অন্যটি বড় গেট। ছোট গেট দিয়েই সবাই ঢোকে-বেরোয়। বড় গেট তালা বন্ধই থাকে। সে দিন রাতে আমি তখন খাচ্ছিলাম। হঠাৎ একদল ছাত্র এসে বলে, বড় গেটের তালা খুলে দিতে। এক জন ছাত্র পড়ে গিয়েছে। কোনও রকমে খাবার রেখে গেটের তালা খুলে দিই। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে আসে একটি অটো এবং একটি ট্যাক্সি। তার পরেই হলুদ ট্যাক্সিতে করে তিন তলা থেকে পড়ে যাওয়া ছাত্রকে নিয়ে বেরিয়ে যায়”।



