রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে ঘিরে বিতর্কের আবহে এবার গ্রেফতার হলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত তৃণমূল নেতা ফিরোজ খান। ভদ্রেশ্বর পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান পদে থাকা ফিরোজকে শুক্রবার জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ নথি নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ভদ্রেশ্বর পৌরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসারের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগ, পৌরসভার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সেই ঘটনার সূত্র ধরেই ফিরোজ খানকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
হুগলির তেলিনিপাড়া এলাকার বাসিন্দা ফিরোজ খান ২০২২ সালের পুরসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে কাউন্সিলর হন। পরে তাঁকে ভদ্রেশ্বর পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
তদন্তকারীদের দাবি, নিখোঁজ নথি সংক্রান্ত অভিযোগে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। সেই কারণেই দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শনিবার তাঁকে চন্দননগর আদালতে তোলা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, ফিরোজ খানের বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত কয়েকদিন ধরেই ভদ্রেশ্বর পৌরসভাকে ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ছিল। সম্প্রতি পৌরসভার চেয়ারম্যান প্রলয় চক্রবর্তী-সহ আটজন তৃণমূল কাউন্সিলর পদত্যাগ করেছেন। এর ফলে পৌর প্রশাসনের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
২২টি ওয়ার্ডের এই পৌরসভা দীর্ঘদিন বিরোধীশূন্য ছিল। তবে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। শাসক দলের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন এবং একের পর এক পদত্যাগে প্রশাসনিক সংকট আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ফিরোজ খানের গ্রেফতারি শুধু একটি আইনি পদক্ষেপ নয়, ভদ্রেশ্বরের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতারও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তদন্তে কী তথ্য সামনে আসে এবং তার রাজনৈতিক প্রভাব কতদূর গড়ায়, এখন সেদিকেই নজর।
এরই মধ্যে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে ঘিরেও একাধিক বিতর্ক সামনে এসেছে। ফলে তাঁর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এক নেতার গ্রেফতারি রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।



