নজরবন্দি ব্যুরোঃ শনিবার সাত সকালে তিলজলায় গুলিকাণ্ডের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। প্রমোটিংয়ের জেরেই স্থানীয় বিবাদ। সেখান থেকে এই ঘটনা। সেই জল্পনার মধ্যেই কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে শুরু রাজনৈতিক চাপানুতোর। তিনি বলেন, গুলি না চললে পুলিশ উঠে যাবে।
আরও পড়ুনঃ Russia-Ukarine War: যুদ্ধের কারণে কোণঠাসা রাশিয়া, তেল নিয়ে বিশেষ চুক্তি ভারতের
রাজ্যের মন্ত্রীর কথায়, বাম আমলে একটাও গুলি চলেনি? বাম আমলে খুন হয়নি? বাম আমলে জঙ্গলমহল সারাদিন জ্বলত। রোজ কত লোক মারা যেত। একটা দুটো ঘটনা হতে পারে। আমি বারবার করে বলি। কেউ কোনও গুলি চলবে না, দুষ্কৃতি থাকবে না, পুলিশ উঠে যাবে। তাহলে তো কোর্ট-ই উঠে যাবে। বাম আমলের তুলনায় অন্য রাজ্যের তুলনায় আমরা বেশীই ঠিক আছি। কিছুদিন আগেই যে খুন হয়েছিল, জানা গেল বিহার থেকে অস্ত্র এসেছে।
তিনি আরও বলেন, বিহার থেকে অস্ত্র আসবে না? গুলি আসবে না? শার্প শুটার আসবে না। সেভাবে একটা দেশের মধ্যে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ করা যায় নাকি? আমরা বিদেশের সীমান্তগুলোতে যেভাবে তল্লাশি হয়। নিজেদের দেশে সেটা করা যায়? পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে।

পাল্টা রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, একজন হেভিওয়েট মন্ত্রী কেন্দ্র সরকারকে কথায় কথায় আক্রমণ করেন, তিনি বলছেন এটা স্বাভাবিক ঘটনা। জ্যোতি বসুর এধরনের মন্তব্যের কারণে রাস্তায় এনেম বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। আজ যদি কোনও মানুষ রাস্তায় নেমে পতাকা দেখায় তাহলে প্রাণ চলে যাবে।
সিপি(আই)এম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, মন্ত্রীপদে শপথ নিয়েছেন। আর তিনি এখন বলছেন গুলি তো চলবেই। তার মানে যারা গুলি করে তাঁদেরকে সমর্থন করছেন তিনি। ওনার কাজ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নয়। ওনার কাজ যারা গুলি চালাচ্ছে তাঁদের মান্যতা দেওয়া।
উল্লেখ্য, শুক্রবার সকালে তিলজলায় তিন রাউন্ড গুলি চলে। গুলিবিদ্ধ হন একজন। আহত হয়েছেন আরও এক ব্যক্তি। পুলিশ সূত্রে খবর, এদিন সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ বচসার জেরে প্রতিবেশী রাজু রাইকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় স্থানীয় দুষ্কৃতী জীবোধ রাই। এমনকি বোমাও ছোড়া হয়। পরে রাজুকে চপারের কোপ মারে দুষ্কৃতীরা। আহত ব্যক্তিকে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আহত হয়েছেন তাঁর বাবাও। অভিযুক্ত পলাতক।
গুলি না চললে পুলিশ উঠে যাবে, কোর্ট উঠে যাবে, দাবী রাজ্যের মন্ত্রীর

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কার্যকলাপ চালাত জীবোধ ও তার চার ভাই। পুরাতন বিবাদের জেরেই হামলা বলেই অনুমান স্থানীয়দের। হামলার কারণ খতিয়ে দেখছে তিলজলা থানার পুলিশ।



