প্রায় চারমাসের টানাপোড়েনের অবসান। ইডির হেফাজতে ‘কালীঘাটের কাকু’। কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র ওরফে ‘ কালীঘাটের কাকু’ কে গতকাল এসএসকেএম থেকে জোকার ইএসআই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। গতকাল রাত ১২ টা ৫২ মিনিটে শুরু হয়েছিল সুজয়কৃষ্ণ -এর কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের কাজ। এর আগে অবশ্য তার মেডিক্যাল পরীক্ষা হয়।এরপর ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের সামনে সুজয়কৃষ্ণ – এর কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু হয়।



আরও পড়ুন: ভগবান রাম বনবাসের সময় মাংস খেতেন – দাবী এনসিপি নেতার।
তিনটি বাক্য তাকে দিয়ে বারবার বলানো হয়েছে, সেগুলি হল -” আপনার নাম কি? আপনার স্ত্রীর নাম কি? এবং আমার সাহেবকে কেউ ছুঁতে পারবেনা।” এদিকে প্রথমে তিনি মুখ খুলতে চাননি। পরে অবশ্য চিকিৎসকদের নির্দেশে মুখ খোলেন। কণ্ঠস্বরের নমুনা দেওয়ার পর হাসপাতালের কেবিনে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেন তিনি। রাত ৩টে ২০ নাগাদ তাকে আবার এসএসকেএম- এ ফেরত আনা হয়। উল্লেখ্য নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে একটি ভয়েস রেকর্ড হাতে আসে ইডির।



সেই কণ্ঠস্বরটি সুজয়কৃষ্ণ – এর বলে দাবী করেন ইডি। সেই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পরেই ‘কাকু’ র কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।কিন্তু আদালতের দারস্থ হয়েও তা সংগ্রহ করতে পারছিলেন না ইডি। তবে অবশেষে ইডির হাতে চলে এল নমুনা। উল্লেখ্য, বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে শুনানির পর সুজয়কৃষ্ণকে হেফাজতে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে ইডি।

অবশেষে ইডির মুঠোয় এল ‘কালীঘাটের কাকু’ র গলা।
প্রসঙ্গত, প্রথম যেদিন সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের বাড়িতে ইডি তল্লাশি চালিয়েছিল, সেদিন ওপর একটি টিম হানা দিয়েছিল রাহুল বেরা নামক ‘কাকু’ ঘনিষ্ঠ একজন সিভিক ভলেন্টিয়ারের বাড়ি থেকে একটি ফোন বাজেয়াপ্ত করেছিল ইডি। সেই ফোন থেকে কিছু টেলিফোনিক কথোপকথন রেকর্ডিং পাওয়া যায়। তার মধ্যে ‘ কালীঘাটের কাকু’ র স্বর আছে বলে দাবী ইডির। তিনি রাহুল কে বলেছিল,” মোবাইলে থাকা নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য মুছে ফেল।’ এই কণ্ঠস্বরের সাথে মেলানোর জন্যই নমুনা নিতে চাওয়া হচ্ছিল যা অবশেষে সমাধা হল।







