নজরবন্দি ব্যুরোঃ ২০২০, ১৪ জুন এখনও সেই তারিখটা ভুলতে পারেননি দেশবাসী। আজ সে না থাকলেও তাঁর স্মৃতি রয়েগিয়েছে তাঁর অনুরাগীদের মনে। প্রায় আড়াই বছর আগে বান্দ্রার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় সুশান্ত সিং রাজপুতের ঝুলন্ত দেহ। তরুণ অভিনেতার অকাল মৃত্যুর অজানা রহস্য বেরিয়ে এসেছে এতদিন পরে। আর সেই রহস্য প্রকাশ্যে এনেছেন তাঁর ময়নাতদন্তের সময় থাকা এক কর্মী। তিনি হঠাৎই দাবি করেন, সুশান্ত আত্মহত্যা করেননি, তাঁকে নাকি খুন করা হয়। এই নিয়ে চলছে সিবিআই তদন্ত। কিন্তু এতদিন পর এই দাবির কারণ কি?
আরও পড়ুনঃ ৫৭ বছরে বিয়ে না করেই বাবা হচ্ছেন ভাইজান, মা কে? বিস্তারিত বললেন সলমন
সম্প্রতি কুপার হাসপাতালের এক কর্মী হঠাৎ দাবি করেন, সুশান্তকে নাকি খুন করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, সুশান্তের শরীরের কয়েকটি হাড় পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, হাড়ে জোরে আঘাত করার চিহ্ন রয়েছে, এবং চোখে ঘুষি মারা হয়েছিল। কিন্তু প্রশ্ন হল, সুশান্তের পরিবারের কেউ সেই আঘাতের চিহ্ন লক্ষ করেননি কেন? এই প্রশ্নের কোনও উত্তর দেননি সেই মুম্বই হাসপাতালের ময়নাতদন্তের কর্মী রূপকুমার।

তৈরি হওয়া নয়া বিতর্ক আরও একবার উস্কে দিলেন ওই কর্মী। মৃত্যুর পর সুশান্তের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো মুম্বইয়ের জুহুর আরএন কুপার হাসপাতালে। ওই হাসপাতালেই সুশান্তের ময়নাতদন্ত হয়। আর এই সময় অন্যান্য কর্মীদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রূপকুমার শাহ নামে ওই ব্যাক্তি। হঠাৎ করেই কয়েক দিন আগে তিনি দাবি করেছেন, সুশান্তকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছিল। হত্যার স্পষ্ট প্রমাণ ছিল। তার পরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেটা আড়াল করার চেষ্টা করেছে।
সদ্য আরও একবার তিনি দাবি করেছেন, তাঁর গলায় যে আঘাতের চিহ্ন ছিল, তার কোনওটাই ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগা বা ঝুলে থাকার ফলে হয়নি। রূপকুমার শাহের মতে, গলা টিপে শ্বাসরোধ করার চিহ্ন সেগুলি। হাসপাতাল ওই কর্মীর বক্তব্য, ‘আমি সেই সময়েই আমার উর্ধ্বতন আধিকারিকদের সেকথা জানাই, কিন্তু তাঁরা আমার কথায় গুরুত্ব দেননি। বরং আমাকে নিজের কাজটুকুতে মন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ময়নাদতন্তের টিমে আমি ছিলাম, কিন্তু সেই টিমের নেতৃত্বে কোন আধিকারিক ছিলেন, তা আমার মনে নেই।’
এক এক করে পোল খুলছেন মর্গের ওই কর্মী, সুশান্ত মৃত্যুর নতুন করে সিবিআই তদন্তের দাবি পরিবারের

এদিকে কর্মীর বয়ান প্রকাশ্যে আসতেই সুশান্তের দিদি শ্বেতা সিং কীর্তি সিবিআইকে আরও গভীরে গিয়ে তাঁর ভাইয়ের মৃত্যুর তদন্তের অনুরোধ করেছেন। ইনস্টাগ্রামে তিনি লিখেছেন, ‘যদি ওই ব্যক্তির কথার সিকিভাগও সত্যি হয়, তবে সিবিআইকে অনুরোধ করব আরও খতিয়ে তদন্ত করতে।’ এর পর কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার উদ্দেশে তিনি লেখেন, ‘আমরা সব সময়ে মনে করেছি, আপনারা সততার সঙ্গে তদন্ত করবেন। দয়া করে আমাদের সত্যিটা জানান।’



