এপস্টেইন ফাইলের ‘কেচ্ছার খাতা’ প্রকাশ্যে—শচীন থেকে মেসি, নাম দেখে স্তম্ভিত বিশ্ব

মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত এপস্টেইন ফাইলে শচীন তেণ্ডুলকর ও লিওনেল মেসির নাম। তবে নথিতে নাম থাকলেই অপরাধ প্রমাণ নয়—এমনই সতর্কতা দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

জেফ্রি এপস্টেইন—একটি নাম, যার সঙ্গে জুড়ে আছে বিশ্বের অন্যতম বড় যৌন অপরাধ কেলেঙ্কারি। আর সেই কেলেঙ্কারির বিস্তৃত নথি প্রকাশ্যে আসতেই বিশ্বজুড়ে নতুন করে তোলপাড়। মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত বিপুল নথিতে উঠে এসেছে অসংখ্য পরিচিত নাম—রাজনীতি, ব্যবসা ও ক্রীড়াজগতের বহু তারকা। তালিকায় রয়েছে শচীন তেণ্ডুলকরলিওনেল মেসি-র নামও। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ জোর দিয়ে বলছেন—নথিতে নাম থাকা মানেই কোনও অপরাধে জড়িত থাকা নয়।

গত শুক্রবার United States Department of Justice এপস্টেইন সংক্রান্ত প্রায় ৩৫ লক্ষ পৃষ্ঠার রিপোর্ট, সঙ্গে দু’হাজারের বেশি ভিডিওপ্রায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার ছবি প্রকাশ করেছে। নথির বিভিন্ন অংশে বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের প্রসঙ্গ এসেছে—কোথাও জনপ্রিয়তার তালিকা, কোথাও ইমেল বা যোগাযোগের উল্লেখ। প্রতিটি ক্ষেত্রেই অভিযোগ প্রমাণিত—এমন দাবি নথি করে না।

শচীন–মেসির নাম কেন এল?

রিপোর্টের ৯ নম্বর ডেটাসেট-এ শচীন তেণ্ডুলকরকে ‘বিশ্বের অন্যতম প্রশংসিত ক্রীড়াবিদ’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সেখানে তাঁর জনপ্রিয়তা ও সামাজিক প্রভাবের কথাই উল্লেখ আছে। একই তালিকায় লিওনেল মেসির নামও রয়েছে—বিশ্বজুড়ে তাঁর বিপুল জনপ্রিয়তার প্রসঙ্গেই। এই অংশে ‘সবচেয়ে প্রশংসিত’ ক্রীড়াবিদদের একটি র‍্যাঙ্কিং দেওয়া হয়েছে—যেখানে শচীনের স্থান পঞ্চম, মেসির ১৫তম। এখানে কোনও বেআইনি কার্যকলাপের অভিযোগ নেই।

তালিকায় আর কারা?

এই জনপ্রিয়তার তালিকায় নাম রয়েছে বাস্কেটবলের কিংবদন্তি Michael Jordan-এর—যাঁর প্রসঙ্গ এসেছে মার্কিন রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে পদক গ্রহণের ঘটনার সূত্রে। গলফ তারকা Tiger Woods-এর নামও ইমেল-সংক্রান্ত একটি অংশে দেখা যায়; তবে সেটিও অপরাধ প্রমাণ নয়, বরং যোগাযোগ/উল্লেখের প্রসঙ্গ।

এ ছাড়াও তালিকায় আছেন প্রাক্তন ফুটবলার David Beckham—যাঁর নাম এসেছে ক্রীড়া-বাণিজ্য ও জনপ্রিয়তার প্রেক্ষিতে। তাঁর ক্লাব Inter Miami CF-তে বর্তমানে খেলেন মেসি।

বিতর্কিত নাম ও সতর্কতা

কিছু নাম ঘিরে বিতর্ক তীব্র—যেমন ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিক আয়োজক কমিটির প্রধান Casey Wasserman-এর নাম, কিংবা ব্যবসায়ী Todd Boehly-র সঙ্গে এপস্টেইনের বৈঠকের উল্লেখ। তবে রিপোর্টেই বলা আছে—এই উল্লেখগুলো ব্যবসা বা প্রশাসনিক যোগাযোগের প্রেক্ষিতে; যৌন অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ হিসেবে এগুলোকে ধরা যায় না।

ইউরোপীয় রাজপরিবার ও রাজনীতির কিছু নামও নথিতে এসেছে। এখানেও বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা—নথির উল্লেখ মানেই অভিযোগ প্রমাণ নয়; অনেক ক্ষেত্রেই এগুলো দাবি, যোগাযোগের নোট বা তৃতীয় পক্ষের বর্ণনা।

এপস্টেইন ফাইলের প্রকাশ বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুললেও, আইনজ্ঞদের একবাক্যে মত—প্রত্যেক নামের ক্ষেত্রে প্রসঙ্গ, প্রমাণ ও আদালতের রায় আলাদা করে দেখা জরুরি। জনপ্রিয়তার তালিকায় নাম থাকা বা কোনও নথিতে উল্লেখ থাকাই যে অপরাধের প্রমাণ—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো বিপজ্জনক।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত