সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সম্প্রতি স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) প্রকাশ করেছে অযোগ্য প্রার্থীদের তালিকা। এরপর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়েছে। সোমবার বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়ে দিলেন, যোগ্য শিক্ষকদের চাকরি রক্ষায় যদি রাজ্য সরকার কোনো বিল আনে, বিরোধীরা সর্বসম্মতভাবে তা সমর্থন করবে।
২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গোটা প্যানেল বাতিল করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। এরপর আদালতের নির্দেশে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, অযোগ্য প্রার্থীরাও ফের পরীক্ষায় অংশ নিতে চাইছেন। গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, সাত দিনের মধ্যে অযোগ্যদের নাম প্রকাশ করতে হবে। সেই নির্দেশে সাড়া দিয়ে শনিবারই তালিকা প্রকাশ করে এসএসসি। একইসঙ্গে জানিয়ে দেয়, এঁদের নতুন পরীক্ষায় বসার সুযোগ নেই।


SSC: যোগ্য শিক্ষকদের চাকরি বাঁচাতে শেষ চেষ্টা, রাজ্য সরকারকে সমর্থন করবে বিরোধীরা

এই পরিস্থিতিতে শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, “অযোগ্যদের নাম প্রকাশ হয়েছে, তাহলে বাকিরা তো যোগ্য। তাঁদের আবার কেন পরীক্ষায় বসতে হবে? এটা ন্যায়ের প্রশ্ন।” তিনি জানান, এটি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়, বরং ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই। বিরোধী দলনেতা ঘোষণা করেন, বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়া হবে।
এদিন বিধানসভায় বঞ্চিত শিক্ষকরাও এসে শুভেন্দু ও আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন দুই নেতা। নওশাদ তৃণমূল সরকারকে সরাসরি আক্রমণ করে বলেন, “তৃণমূল যেখানে আছে, দুর্নীতি সেখানেই আছে। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি তার জ্বলন্ত প্রমাণ।”
প্রাক্তন বিচারপতি তথা বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নিয়োগে ফের জালিয়াতির আশঙ্কা প্রসঙ্গ টেনে এনে বিরোধীরা রাজ্যের শাসকদলকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান।


নওশাদ আরও কটাক্ষ করেন, “বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহাকে গ্রেফতার করে লোক দেখানো বাহবা কুড়োচ্ছে সরকার। রাঘব বোয়ালরা এখনো ধরা পড়েনি।” পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, রাজ্যের সরকারি স্কুলে বাংলা শিক্ষকের ঘাটতি রাজ্যের জন্য লজ্জাজনক।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিয়োগ দুর্নীতি ইস্যুতে শুভেন্দু অধিকারী ও নওশাদ সিদ্দিকীর একসঙ্গে সরব হওয়া বিরোধীদের লড়াইকে আরও জোরদার করবে। বিশেষ করে যখন একের পর এক তৃণমূল নেতা তদন্তে ধরা পড়ছেন, তখন যোগ্য শিক্ষকদের চাকরি রক্ষায় বিরোধীদের এই অবস্থান রাজ্য রাজনীতিতে শাসকদলের অস্বস্তি আরও বাড়াবে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



