বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এসএসসি (SSC) নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সক্রিয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Enforcement Directorate)। কলকাতার (Kolkata) মোট ৭ জায়গায় হানা দিয়েছেন এজেন্সির গোয়েন্দারা। মূলত, নিয়োগ মামলায় অভিযুক্ত এবং জামিনপ্রাপ্ত প্রসন্ন রায়ের ফ্ল্যাট, অফিসের পাশাপাশি তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীর বাড়িতেও গিয়েছেন আধিকারিকরা। সঙ্গে রয়েছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর (Central Force) জওয়ানরা। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে প্রসন্ন রায়ের। একাধিক নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: স্বচ্ছতা আনতে বদ্ধপরিকর তৃণমূল, নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত জীবনকৃষ্ণের অনুগামীকে সরাল দল


একদিকে যখন পুরোদমে রেশন দুর্নীতিকাণ্ডের তদন্ত করছে ইডি (Enforcement Directorate) তারই মধ্যে আবার নিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেও তৎপর আধিকারিকরা। গত তিন দিন আগেই কলকাতার চার জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালান গোয়েন্দারা। যার মধ্যে ছিল রেশন দুর্নীতি কাণ্ডে ধৃত বনগাঁ পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল নেতা শংকর আঢ্যের চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট অরবিন্দ সিংহের অফিস।

রেশন দুর্নীতি কাণ্ড নিয়ে যখন যথেষ্ট শোরগোল চলছে তখন আজ সকাল থেকে কলকাতা শহরের একাধিক জায়গায় হানা দিলেন এজেন্সির গোয়েন্দারা। প্রথমে নিউটাউনের বলাকা আবাসনে প্রসন্ন রায়ের দু’টি ফ্ল্যাট, আইডিয়াল টাওয়ারে প্রসন্নের আরও একটি ফ্ল্যাট এবং নিউটাউনের তাঁর অফিসে পৌঁছে যান তাঁরা। সঙ্গে ছিল সশস্ত্র কেন্দ্রীয় বাহিনী। সন্দেশখালির ঘটনার পর থেকেই নিজেদের অভিযানে সতর্ক দেখা যাচ্ছে গোয়েন্দাদের।



সূত্রের খবর, প্রসন্ন রায়ের অফিসের বাইরে প্রায় ৩০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকতে হয় গোয়েন্দাদের। অথচ তাঁরা অফিসে ঢুকতে পারেননি। এরপরই অফিসের কেয়ারটেকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি চাবি নিয়ে এলে গোয়েন্দারা তল্লাশি চালাবেন বলে এখনও পর্যন্ত খবর। অন্যদিকে, নিয়োগ মামলায় উঠে এসেছে আরেক মিডলম্যানের নাম। তিনি রোহিত ঝা। মুকুন্দপুরের নয়াবাদে তাঁর বাড়িতেও হানা দিয়েছে ইডি (Enforcement Directorate)।
নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে ফের তৎপর ED, শহরের জুড়ে জারি ম্যারাথন তল্লাশি, এবার নজরে কে?
প্রসঙ্গত, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আগেই সিবিআই-এর হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন প্রসন্ন রায়। তিনি ছিলেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও তৃণমূল বিধায়ক জীবন সাহার ঘনিষ্ঠ। নিয়োগ মামলার চার্জশিটেও তাঁর নাম রেখেছিল সিবিআই। কিন্তু গত বছর ১০ নভেম্বর তাঁকে জামিন দেয় সুপ্রিম কোর্ট।

এহেন প্রসন্ন রায়ের ৪০০ কোটি টাকার সম্পত্তির হদিশ পাওয়া যাচ্ছে। সিবিআই-ও এই দাবি করেছিল। নিয়োগ দুর্নীতির টাকা থেকেই এই বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন প্রসন্ন, এরকমই বিশ্বাস গোয়েন্দাদের। সেই কারণেই এবার ইডি (Enforcement Directorate) প্রসন্ন ও তাঁর পরিবারের অর্থ উপার্জনের মাধ্যম সম্পর্কে আরও বিস্তারিত খোঁজ খবর নিতে চায়। নিয়োগ মামলার নিষ্পত্তি খুব দ্রুত করার নির্দেশ রয়েছে কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের। এবার আবার নতুন করে বিপদে পড়বেন প্রসন্ন?







