ভোটের মুখে ফের চাঞ্চল্য। শনিবার সকালে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী Partha Chatterjee-র নাকতলার বাড়িতে পৌঁছল Enforcement Directorate-এর দল। সঙ্গে ছিল বিপুল কেন্দ্রীয় বাহিনী। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে, যা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।
শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা-১১টার মধ্যে তিনটি গাড়িতে করে ইডির আধিকারিকরা পৌঁছন নাকতলায়। বাড়ির চারপাশ ঘিরে ফেলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। সাধারণ মানুষ বা সংবাদমাধ্যম—কাউকেই কাছে যেতে দেওয়া হয়নি। সূত্রের খবর, সেই সময় পার্থ চট্টোপাধ্যায় বাড়িতেই ছিলেন।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, স্কুল নিয়োগ দুর্নীতি তথা এসএসসি মামলায় এখনও বহু প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। সেই কারণেই বারবার তলব করা হচ্ছিল পার্থকে। কিন্তু অভিযোগ, তিনি অসুস্থতার কথা জানিয়ে হাজিরা এড়িয়ে যান। বিকল্প হিসেবে ভিডিও কনফারেন্স বা বাড়িতে এসে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি। সেই সূত্র ধরেই এবার সরাসরি তাঁর বাড়িতে পৌঁছে যায় ইডি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই একই নাকতলার বাড়ি থেকেই ২০২২ সালে পার্থকে গ্রেফতার করেছিল ইডি। সেই সময় তাঁর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত Arpita Mukherjee-র বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছিল ৫০ কোটিরও বেশি নগদ টাকা, যা গোটা রাজ্যকে নাড়িয়ে দিয়েছিল।
এই মামলায় আরেক গুরুত্বপূর্ণ নাম ‘মিডলম্যান’ প্রসন্ন। ইডির চার্জশিটে তাঁর নামও উঠে এসেছে এবং তাঁকেও গ্রেফতার করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের মতে, এই মামলার আর্থিক লেনদেন ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তিন বছরেরও বেশি সময় জেলে কাটানোর পর বর্তমানে জামিনে রয়েছেন পার্থ। তবে এই মামলায় নাম জড়ানোর পর তাঁর সঙ্গে রাজনৈতিক দূরত্ব তৈরি করেছে All India Trinamool Congress। দল থেকেও তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও তিনি এখনও বেহালা পশ্চিম কেন্দ্রের বিধায়ক, তবে আসন্ন নির্বাচনে ওই আসন থেকে তাঁকে প্রার্থী করেনি দল। সেখানে এবার লড়ছেন Ratna Chatterjee।
ভোটের আগে ইডির এই হঠাৎ সক্রিয়তা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে—তদন্ত কি নতুন মোড় নিতে চলেছে? নাকি রাজনৈতিক প্রভাবও রয়েছে এর নেপথ্যে? উত্তর খুঁজছে রাজনৈতিক মহল।



