লাউডন স্ট্রিটে ইডি অভিযান ঘিরে নাটকীয় পরিস্থিতি, মুখোমুখি সংঘাতে জড়াল কেন্দ্রীয় সংস্থা ও কলকাতা পুলিশ—আর ঠিক সেই আবহেই ঘটনাস্থলে পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই ঘটনাপ্রবাহ বিকেলের মধ্যেই পৌঁছে যায় কলকাতা হাই কোর্টে। কে কাকে বাধা দিল, কারা নথি নিল—এই প্রশ্নেই উত্তপ্ত রাজ্য-রাজনীতি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ Enforcement Directorate বেআইনি কয়লা পাচার মামলায় লাউডন স্ট্রিটে আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈন-এর ৭ নম্বর বাড়িতে তল্লাশি শুরু করে। অথচ অভিযোগ, পাশেই থাকা শেক্সপিয়র সরণি থানাকে আগাম কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি। সকাল ৯টা নাগাদ খবর পেয়ে প্রথমে পুলিশের এক সার্জেন্ট ঘটনাস্থলে গেলে তাঁকে ভিতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। কোনও পরিচয়পত্র বা তল্লাশি পরোয়ানা দেখানো হয়নি বলেও পুলিশের দাবি।


পুলিশ সূত্রে আরও অভিযোগ, বাড়ির সামনে থাকা আধিকারিকদের পরিচয় যাচাই করতে গেলে উলটে উর্দিধারী পুলিশকেই ধাক্কা দেওয়া হয়। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছন ডিসি (দক্ষিণ) প্রিয়ব্রত রায়। তাঁর সঙ্গেও বচসা হয়, এমনকি ধাক্কাধাক্কির অভিযোগও ওঠে। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় বেলা ১১টা ২০ মিনিট নাগাদ কলকাতা পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে অনধিকার প্রবেশ ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ নথিভুক্ত করে।
এর মধ্যেই বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ ইডি-র তরফে কলকাতা পুলিশকে একটি ইমেল পাঠানো হয়, যেখানে লাউডন স্ট্রিটে তল্লাশি চালানোর কথা জানানো হয়। বেলা ১২টা নাগাদ পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেখানে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী নিজে। তিনি চারতলায় প্রতীকের বাড়িতে ঢুকে কিছুক্ষণ পরে ফাইল ও নথিপত্র হাতে বেরিয়ে আসেন।
এই অভিযান নিয়ে ইডি পরে এক বিবৃতিতে দাবি করে, পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের পরিচয়পত্র দেখানো হয়েছিল এবং মুখ্যমন্ত্রীর আগমন পর্যন্ত তল্লাশি শান্তিপূর্ণভাবেই চলছিল। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী বড় পুলিশবাহিনী নিয়ে এসে গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে যান বলে অভিযোগ ইডির। শুধু তাই নয়, তাঁদের দাবি—এরপর মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় সল্টলেক সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দফতরে গিয়ে সেখান থেকেও নথি ‘জোর করে’ নিয়ে আসে, ফলে তদন্ত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।


অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুরু থেকেই এই অভিযানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশল ‘চুরি’ করতেই এই তল্লাশি। শুক্রবার তিনি শেক্সপিয়র সরণি থানা ও সল্টলেকের ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানায় ইডির বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, হুমকি ও চুরির অভিযোগ দায়ের করেন।
এই পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইডি ও তৃণমূল—দু’পক্ষই Calcutta High Court-এ পৃথক মামলা করেছে। শুক্রবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ-এর এজলাসে শুনানির কথা থাকলেও, এজলাসে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে মামলার শুনানি ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতুবি রাখা হয়। ফলে লাউডন স্ট্রিটের এই সংঘাত আপাতত আইনি লড়াইয়ের নতুন অধ্যায়ের দিকেই এগোচ্ছে।









