আইপ্যাক-কাণ্ডে রাজনৈতিক উত্তাপ এবার সরাসরি আদালতের এজলাসে। তদন্তে বাধার অভিযোগ তুলে ফের কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হল ইডি। শুধু তাই নয়, এই মামলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কেও যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হল। শুক্রবার দুপুরে একই বেঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে ইডি ও তৃণমূল—একসঙ্গে শোনা হবে জোড়া মামলা।
শুক্রবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট-এর তরফে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ-এর বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। আদালত মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে এবং দুপুর আড়াইটে নাগাদ শুনানির সময় নির্ধারিত হয়েছে। ইডির আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদী জানান, তদন্ত চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি ও ভূমিকার প্রেক্ষিতে তাঁকেও মামলার পক্ষভুক্ত করা হচ্ছে।


এই মামলার সূত্রপাত বৃহস্পতিবারের জোড়া অভিযানে। বেআইনি কয়লা পাচার সংক্রান্ত একটি মামলার সূত্র ধরে ইডির একটি দল যায় সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে আইপ্যাক-এর দফতরে। একই সময়ে অন্য দলটি যায় লাউডন স্ট্রিটে আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈন-এর বাড়িতে। আইপ্যাক রাজ্য সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থা হওয়ায় এই অভিযানের রাজনৈতিক অভিঘাত দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে।

ইডির অভিযান চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী নিজে ঘটনাস্থলে পৌঁছে নথি, ফাইল ও ল্যাপটপ বাইরে নিয়ে আসেন বলে অভিযোগ। পরে সল্টলেকের আইপ্যাক দফতরেও তিনি যান। ইডির দাবি, এই ঘটনায় তাদের সাংবিধানিক ক্ষমতার কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং জোর করে নথিপত্র ছিনতাই করা হয়েছে। তদন্তে বিঘ্ন ঘটানোর অভিযোগেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
অন্য দিকে, মুখ্যমন্ত্রী ইডির অভিযানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশল হাতিয়ে নিতেই এই তল্লাশি। আইপ্যাক দফতরে দাঁড়িয়েই তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। সেই অভিযানের প্রতিবাদে পাল্টা মামলা দায়ের করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ওই মামলায় ইডি ও আইপ্যাক—দু’পক্ষকেই যুক্ত করা হয়েছে।


ফলে শুক্রবার দুপুরে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের বেঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে দু’টি মামলা—একদিকে ইডির তদন্তে বাধার অভিযোগ, অন্যদিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযানের অভিযোগে তৃণমূলের পাল্টা মামলা। আইপ্যাক-কাণ্ডে আইনি লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।







