নজরবন্দি ব্যুরোঃ সরাতে হবে মোদীর ছবি, কমিশনের নির্দেশে অস্বস্তিতে তৃণমূল। আপত্তি তুলেছিল রাজ্যের শাসকদল বিজেপি। শুধু তাই নয় দুপুরে নির্বাচন কমিশনের কাছে তা নিয়ে অভিযোগও জানিয়ে আসে তারা। অভিযোগের বিষয় বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ও করোনার শংসাপত্রে মোদীর ছবি থাকা। যে অভিযোগের ভিত্তিতে নিজেদের সিদ্ধান্ত রাতেই ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেয় আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে রাজ্যের সব পেট্রোল পাম্প থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবি। সেই সঙ্গে কোভিডের টিকার শংসাপত্র থেকেও সরিয়ে ফেলতে হবে প্রধানমন্ত্রীর ছবি।
আরও পড়ুনঃ দক্ষিনে মোদী উত্তরে দিদি, ৭ তারিখ শিলিগুড়িতে সভা মুখ্যমন্ত্রীর।
যে সিদ্ধান্তে স্পষ্টতই খুশি রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। তবে এই ব্যাপারে চূড়ান্ত ক্ষুব্ধ বিজেপি। তারা এব্যাপারে শুধু কমিশনের কাছে অভিযোগ নয় আদালতেও মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে বলেই জানা গিয়েছে। গতকালই পেট্রোল পাম্প ও কোভিডের টিকার শংসাপত্রে মোদির ছবি ব্যবহার করা নিয়ে আপত্তি তোলে তৃণমূল। প্রথমে সকালের দিকে এই নিয়ে ট্যুইট করেন দলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন। তিনি লেখেন, ‘ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষিত হয়ে গিয়েছে। তারপরও প্রধানমন্ত্রীর ছবি নির্লজ্জভাবে কোভিড-১৯ সার্টিফিকেটে ব্যবহৃত হচ্ছে।’ এরই পাশাপাশি দুপুরে কলকাতার বিবাদি বাগ এলাকায় নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে গিয়ে এই নিয়ে বিস্তারিত ভাবে অভিযোগ জানিয়ে আসেন রাজ্যর পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।
সেই আপত্তির জেরে রাতেই কমিশন জানিয়ে দেয় আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে রাজ্যের সব পেট্রোল পাম্প থেকে মোদির ছবি সরিয়ে দিতে হবে। সেই সঙ্গে কোভিডের ভ্যাক্সিনের শংসাপত্রেও মোদির ছবি ব্যভার বন্ধ করতে হবে। কারন রাজ্যের পেট্রল পাম্পগুলিতে মোদীর ওই ছবি আদর্শ আচরণবিধি ভঙ্গ করছে। ভ্যাক্সিনের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। আক্রন মোদী শুধু দেশের প্রধানমন্ত্রী নন রাজ্য নির্বাচনে বিজেপির প্রধান মুখও বটে। কমিশনের এই নির্দেশ বিজেপি-র কাছে কার্যত ‘ধাক্কা’ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। যদিও গতকাল তৃণমূলের আপত্তি নিয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ জানিয়েছিলেন, পেট্রোল পাম্প ব্যক্তিগত সম্পত্তি। সেখানে দেশের প্রধানমন্ত্রীর ছবি পাম্পমালিকেরা লাগিয়ে রাখতেই পারেন। যদিও দিলীপবাবুর যুক্তি মানতে নারাজ কমিশন।
সরাতে হবে মোদীর ছবি, কমিশনের নির্দেশে অস্বস্তিতে বিজেপি। এরই জেরে এবার বিষয়টি নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। সম্ভবত আজই দিল্লিতে রাজ্য বিজেপির একটি প্রতিনিধিদল মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে এই বিষয়ে তাঁদের মতামত জানাবেন ও এই সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখার আর্জি জানাবেন। কমিশন যদি বিজেপির দাবি মেনে না নেয় তার জন্যও আদালতের দরজা খোলা রাখছে রাজ্য বিজেপি। সেক্ষেত্রে তাঁরা মামলা দায়ের করার পথেও হাঁটতে পারে।



