নজরবন্দি ব্যুরোঃ খুব সহজে ক্ষমা করে দেন? ক্ষমাই পরম ধর্ম- যত সহজে গুণীজনেরা এই কথা বলে দিতে পারেন, তত সহজে কিন্তু আমরা তার প্রয়োগ করতে পারি না। আজকাল সমাজ এবং জীবন আগের তুলনায় অনেক বেশি জটিল। আর আপনি যদি কাউকে সহজে ক্ষমা করে দেন, তাহলে কিন্তু সকলেই আলোচনা করবেন আপমার অভ্যাস নিয়ে। এমকী ক্ষমা করে দেওয়ার জন্য অনেক রকম সমালোচনারও মুখে পড়তে হবে আপনাকে।
আরও পড়ুনঃ উপাচার্য কে গালিগালাজের জের, গ্রেপ্তার আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রনেতা


আমাদের চারপাশের পরিস্থিতি এতই জটিল যে, যদি কোনও মানুষ সহজে ক্ষমা করে দেন তাহলে তাঁর সহজ-সরল মনোভাবের জন্য পরবর্তীতে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। অহেতুক ঝামেলা, অশান্তি আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপরেও কিন্তু প্রভাব ফেলে। যদিও মনোবিজ্ঞান বলে যে, ক্ষমার অভ্যাস খুবই ভাল এবং সেই সঙ্গে কিন্তু মন থেকে ক্ষমা করে দিতে পারলে অনেক রকম সুবিধাও পাওয়া যায়।

শ্রী বালাজি অ্যাকশন মেডিকেল ইনস্টিটিউট, নিউ দিল্লির পরামর্শক মনোবিজ্ঞানী চিকিৎসক পল্লব যোশীর মতে, ক্ষমার মধ্যে দিয়ে মোক্ষ লাভ করা যায়। অনেক বেশি মানসিক শান্তিও পাওয়া যায়। মনের দিক থেকে অনেক বেশি শক্তি পাওয়া যায়। শান্তি পাওয়া যায়। কিন্তু জীবনের সবক্ষেত্রেই কি এই শর্তহীন ক্ষমা সম্ভব? ধরা যাক, সঙ্গীর সঙ্গে আপনার সম্পর্কের প্রয় পাঁচ। একসঙ্গে মেশা, পথ চলায় একে -অপরকে চিনেছেন, জেনেছেন।
কিন্তু মাঝেমধ্যেই আপনার সঙ্গী এমন কিছু ভুল করে বসেন, যা আপনার মনকে আঘাত দেয় কিন্তু আপনি নিজে মনখুলে সেখানে কোনও কথাই বলতে পারেন না। দিনের পর দিন এই অভ্যাস যেমন কোনও ভাবেই কাম্য নয়, তেমনই ক্ষমা করে দেওয়ার মধ্যেও আলাদা করে নিজের কোনও কৃতত্ব বজায় থাকে না।


ঠান্ডা মাথায় ভাবলে দেখতে পারবেন, এতে আপনি নিজের কতখানি ক্ষতি করলেন। সময়ের সঙ্গে সব ক্ষতই শুকিয়ে যায় ঠিকই, কিন্তু মানসিক ক্ষতে প্রলেপ দেওয়াটা অতটাও কিন্তু সহজ নয়। সব সময় সঙ্গীকে ক্ষমা করে দিলেই যে সম্পর্ক ভাল হয়ে যায় এমন কিন্তু একেবারেই নয়।
সম্পর্কে ওঠানামা, সমস্যা, ঝগড়া এসব তো থাকেই। তবে এই সব নিয়েই আমাদের চলতে হবে। পারস্পরিক বোঝাপড়াটাও কিন্তু খুব জরুরি। সব সময় সহানুভূতি কিংবা সমবেদনায় সব কাজ হয় না। বরং সুসম্পর্কের ক্ষেত্রে তা বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
খুব সহজে ক্ষমা করে দেন? জানেন কি এটা আপনার বা আপনার সঙ্গীর জন্য কতটা খারাপ?

শর্তহীন ক্ষমার পর সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। এতে পরবর্তীতে যে কোনও সম্পর্ক অনেক বেশি জটিল হয়ে যায়। এমনকী সেই বন্ধনও ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয় না। আর তাই মন থেকে তখনই ক্ষমা করুন, যখন আপনিও নিশ্চিত থাকবেন যে সেখানে কোনও ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না।







