ঘরের মাঠে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ওড়িশার কাছে ১-২ গোলে হেরে ইস্টবেঙ্গলের জয়ের হ্যাটট্রিক থামল। ২২ অক্টোবর শেষবার ওড়িশার বিপক্ষেই হেরেছিল ইস্টবেঙ্গল। বৃহস্পতিবার আবার একই প্রতিপক্ষের কাছে হারতে হল তাদের। দ্বিতীয়ার্ধ পুরোটা দশ জনে খেলেও লালচুংনুঙ্গার গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। তবে জেরি এবং হুগো বুমোসের গোলে জয় ছিনিয়ে নিল ওড়িশা।
ম্যাচের প্রথম দশ মিনিটেই ইস্টবেঙ্গল বড় ধাক্কা খায়। দিমিত্রিয়স দিয়ামানতাকোস এবং সাউল ক্রেসপোর অনুপস্থিতিতে তালালই ছিলেন মাঝমাঠের ভরসা। কিন্তু হুগো বুমোসের সঙ্গে সংঘর্ষে হাঁটুতে গুরুতর চোট পেয়ে মাত্র দশ মিনিটের মাথায় মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। তালালের অনুপস্থিতি পুরো ম্যাচে ভুগিয়েছে ইস্টবেঙ্গলকে।


প্রথমার্ধের শেষের দিকে রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ইস্টবেঙ্গলকে আরও পিছিয়ে দেয়। জিকসন প্রথম হলুদ কার্ড দেখার পর দিয়েগো মৌরিসিয়োর ঘাড়ে হাত লাগায়। রিপ্লে-তে দেখা যায় ইচ্ছাকৃত আঘাত নয়, কিন্তু রেফারি দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দিয়ে তাঁকে মাঠ থেকে বার করে দেন। ফলে, দ্বিতীয়ার্ধে দশ জনে খেলতে বাধ্য হয় ইস্টবেঙ্গল।
দুই দলের গোলের ক্ষেত্রে গোলকিপারদের ভুল বড় ভূমিকা নিয়েছে। ইস্টবেঙ্গলের গোলটি আসে ওড়িশার গোলকিপার অমরিন্দর সিংহের কর্নার ফস্কানোর সুযোগে। লালচুংনুঙ্গা সেই ফাঁক কাজে লাগিয়ে গোল করেন। ওড়িশার সমতাসূচক গোলটি আসে ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার প্রভসুখন গিলের ভুল অনুমানে। জেরি ক্রস করবেন ভেবে প্রথম পোস্ট ছেড়ে যান গিল, কিন্তু তাঁর শট সরাসরি গোলে ঢুকে যায়।
রক্ষণে অনবদ্য পারফরম্যান্স দেখালেও আনোয়ার আলির ভুলে দ্বিতীয় গোল হজম করে ইস্টবেঙ্গল। মৌরিসিয়োর বিরুদ্ধে আগেভাগে ট্যাকলে গিয়ে জায়গা ফাঁকা করে দেন আনোয়ার, যা কাজে লাগিয়ে বুমোস জয়সূচক গোল করেন।


এই হারের ফলে ইস্টবেঙ্গল পয়েন্ট তালিকায় ১১ নম্বরেই রইল। অপরদিকে, তিন পয়েন্ট নিয়ে ওড়িশা উঠে এল তৃতীয় স্থানে। লাল-হলুদের জন্য সামনে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।







