একাধিক সুযোগ তৈরি করেও জয় এল না। গোয়ার বিরুদ্ধে আক্রমণে ধার দেখালেও শেষ পর্যন্ত গোলের মুখ খুলতে পারল না ইস্টবেঙ্গল। টানটান লড়াইয়ের ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য ড্র-তেই শেষ হল। ফলে চার ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের চতুর্থ স্থানে থাকল লাল-হলুদ শিবির।
ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গোলের জন্য মরিয়া চেষ্টা চালায় ইস্টবেঙ্গল। সংযুক্তি সময়ে আন্তন, রশিদদের নেতৃত্বে একের পর এক আক্রমণ গড়ে ওঠে। কিন্তু বিপক্ষের শক্ত রক্ষণভাগ সেই সব প্রচেষ্টা রুখে দেয়। ৮৯ মিনিটে বিপিন সিংয়ের পরিবর্তে ডেভিড লালহানসাঙ্গাকে নামানো হলেও ম্যাচের ভাগ্য আর বদলানো যায়নি।

প্রথমার্ধ থেকেই ম্যাচ ছিল বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে। ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই লাল-হলুদের বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন ঈশান পণ্ডিতা, তবে আনোয়ার আলির দুর্দান্ত ট্যাকেলে বিপদ কেটে যায়। কয়েক মিনিট পর আবার আকাশ সাঙ্গওয়ানের ক্রসও ক্লিয়ার করেন আনোয়ার।
১৭ মিনিটে ইউসেফ এজেজারি ও মিগুয়েলের যৌথ আক্রমণ কিছুটা চাপ তৈরি করলেও গোয়ার রক্ষণভাগ সামলে নেয়। ২৬ মিনিটে গোলের সেরা সুযোগ পায় ইস্টবেঙ্গল। বিপিন সিংয়ের নিখুঁত ক্রস থেকে বল পেয়ে ইউসেফ পোস্টের উপর দিয়ে শট মারেন।
অন্যদিকে গোয়াও বেশ কয়েকবার গোলের চেষ্টা করে। তবে সতর্ক ছিলেন ইস্টবেঙ্গলের গোলকিপার প্রভসুখন সিং। ৩৯ মিনিটে সহজ সুযোগ পেয়েও গোল করতে পারেননি ঈশান পণ্ডিতা। পরপর দুইবার সুযোগ নষ্ট করেন তিনি।


দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। ৫৫ মিনিটে কোচ দুই বদল করেন—এডমুন্ড লালরিন্ডিকা এবং নওরেম মহেশের জায়গায় নামেন আন্তন ও পিভি বিষ্ণু। এরপর ৬৪ ও ৬৮ মিনিটে গোলের সুযোগ তৈরি হলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল।
৭৫ মিনিটে ডান দিক থেকে আসা নিখুঁত ক্রস পেয়েও রেনিয়ার ফার্নান্ডেজের শট অল্পের জন্য পোস্টের উপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত কোনও দলই গোলের দেখা পায়নি।

এই ড্রয়ের ফলে চার ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে রয়েছে ইস্টবেঙ্গল। ৮ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে গোয়া। তিন ম্যাচে তিন জয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে মোহনবাগান, সমান পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জামশেদপুর, যদিও গোলপার্থক্যে পিছিয়ে তারা।








