দক্ষিণবঙ্গের দুর্গাপুরে ডাক্তারি পড়ুয়ার উপর সংঘটিত নৃশংস দুর্গাপুর গণধর্ষণ ঘটনায় রাজ্য পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। আসানসোল-দুর্গাপুর অঞ্চলের পুলিশ জানিয়েছে, নির্যাতিতার কষ্ট “ওড়িশার মতো” তাঁদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। যে কোনও রকম ছাড় দেওয়া হবে না, এবং দোষীদের দ্রুত বিচার করা হবে।
পুলিশের সক্রিয় পদক্ষেপ
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে পরাণগঞ্জ কালীবাড়ি শ্মশান লাগোয়া জঙ্গলে ড্রোন ব্যবহার করে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি জঙ্গলের আশপাশের গ্রামগুলো ঘুরে প্রতিটি বাড়ি পরিদর্শন করা হচ্ছে। X হ্যান্ডলে পুলিশ জানিয়েছে, “নির্যাতিতার সুস্থতা ও পরিবারের সুরক্ষা আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তিকর তথ্যের উপর বিশ্বাস করবেন না।”
ঘটনার প্রেক্ষাপট
দুর্গাপুরের বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী, যিনি ওড়িশার জলেশ্বরের বাসিন্দা, শুক্রবার রাতে সহপাঠীর সঙ্গে খাবারের জন্য বাইরে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, একদল যুবক তাঁকে জঙ্গলে টেনে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করে। নির্যাতিতার বাবা জানিয়েছেন, রাত ৯টা ৩০ মিনিটে একজন যুবক তাঁর মেয়েকে নিয়ে গেটের কাছে দাঁড়ায়। এরপর ২-৩ জন যুবক ঘটনাস্থলে এসে তাকে ধর্ষণ করে এবং মোবাইল কেড়ে নেয়।
পুলিশি তৎপরতা ও নীতি
আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ জানিয়েছে, দুর্গাপুর গণধর্ষণ ঘটনায় কোনও রেয়াত করা হবে না। জিরো টলারেন্স নীতি অনুযায়ী, অভিযুক্তরা দ্রুত আদালতে হাজির করা হবে এবং যথাযথ আইনানুযায়ী দণ্ডনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ নিশ্চিত করেছে, নির্যাতিতার সুস্থতার জন্য সকল ধরনের সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশ্ন
এই নৃশংস ঘটনার মাধ্যমে কলেজ প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জঙ্গলের সঙ্গে হোস্টেলের নিকটবর্তী অবস্থান এবং অভিযুক্তদের সহজে প্রবেশের সুযোগ নিয়ে সমাজে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে কলেজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হবে।
সামাজিক প্রতিক্রিয়া ও সচেতনতা
দুর্গাপুর গণধর্ষণ কেবল স্থানীয় নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। রাজ্য পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি এবং দ্রুত পদক্ষেপে সাধারণ মানুষকে একটি শক্ত বার্তা দেওয়া হয়েছে—নারী নির্যাতন সহ্য করা হবে না।
পরবর্তী ধাপ
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে চার্জশিট তৈরি প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তদন্ত শেষে সমস্ত অভিযুক্তকে দ্রুত আদালতের মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। ড্রোন ও মাঠে তল্লাশির মাধ্যমে বাকি অভিযুক্তদের ধরার চেষ্টা চলছে।



