দুর্গাপুর গণধর্ষণকাণ্ডে জঙ্গলে পুনর্নির্মাণ, সহপাঠীকেও জেরা করছে পুলিশ

দুর্গাপুর গণধর্ষণ মামলা তদন্তে নয়া মোড় — ঘটনার রাতে কী হয়েছিল তা জানতেই জঙ্গলে নিয়ে পুনর্নির্মাণ করছে পুলিশ। ধৃতদের সঙ্গে সহপাঠীকেও জিজ্ঞাসাবাদ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দুর্গাপুরের মর্মান্তিক গণধর্ষণ মামলা (Durgapur Gangrape Case)-য় তদন্ত আরও গভীরে পৌঁছল। ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে পুলিশ ঘটনার পুনর্নির্মাণ (Police Reconstruction) করছে। মঙ্গলবার রাতে দুর্গাপুর মেডিক্যাল কলেজের পিছনের জঙ্গলে, যেখানে এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছিল বলে অভিযোগ, সেখানে ধৃতদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল ঘুরে দেখল তদন্তকারী দল।

ডিসিপি অভিষেক গুপ্তার নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ টিম ওই এলাকায় পৌঁছে ঘটনার প্রতিটি মুহূর্ত পুনর্গঠন করছে। প্রথমে ধৃত এক অভিযুক্তকে দিয়ে চিহ্নিতকরণের কাজ শুরু হয়। পরে বাকি চার অভিযুক্তকেও সেখানে আনা হবে বলে জানা গেছে।


সহপাঠীকেও জেরা, মিলিয়ে দেখা হচ্ছে বয়ান

ঘটনার রাতে নির্যাতিতার সঙ্গে ছিলেন তাঁর এক সহপাঠী। তাঁকেও আজ নিয়ে যাওয়া হয় ঘটনার স্থান জঙ্গলে। তদন্তকারী আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ধৃতদের বয়ানের সঙ্গে সহপাঠীর বয়ান মিলিয়ে দেখা হবে। দু’জনকে আলাদা আলাদা করে ঘটনার পুনর্নির্মাণ (Reconstruction of Incident) করতে বলা হয়েছে, যাতে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হয়।

পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তদের রাতভর জেরা করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দু’জনকে তাঁদের বাড়িতে নিয়ে গিয়েও তল্লাশি চালানো হয়। ধৃতদের পোশাকও উদ্ধার করেছে পুলিশ, যা ঘটনার সময় পরনে ছিল বলে জানা গেছে।


চিকিৎসা রিপোর্টে মিলেছে ধর্ষণের প্রমাণ

মেডিক্যাল রিপোর্টে নির্যাতিতার শরীরে ধর্ষণের স্পষ্ট ইঙ্গিত (Medical Report Confirms Rape) পাওয়া গেছে। চিকিৎসকদের রিপোর্ট অনুযায়ী, যৌনাঙ্গে ক্ষতচিহ্ন রয়েছে, এবং ভিতরের চামড়া ছিঁড়ে গেছে। প্রচুর রক্তক্ষরণেরও উল্লেখ রয়েছে।

এই রিপোর্ট পুলিশের হাতে আসতেই তদন্তে গতি বেড়েছে। ফরেনসিক রিপোর্ট ও ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা।


রাজনৈতিক বিতর্কে ঘেরা দুর্গাপুর মামলা

ঘটনায় ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে মোট পাঁচ জন অভিযুক্তকে (Five Accused Arrested)। তাঁদের মধ্যে একজন স্থানীয় তৃণমূল নেতার ছেলে বলে দাবি করেছেন বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেছেন, “ধৃতদের মধ্যে একজন দুর্গাপুর পুরনিগমের অস্থায়ী কর্মী ও তৃণমূলের ক্যাডার।”

শুভেন্দুর বক্তব্য, “এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি শাসক দলের পদাধিকারী জড়িত। শাসক যেখানে শোষক, সেখানে ন্যায়ের আশা করা বৃথা।” এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে।

তবে তৃণমূল শিবিরের দাবি, “দোষী যে-ই হোক, তাঁকে আইনের মাধ্যমে কঠোর শাস্তি পেতে হবে।”


পুলিশের নজর এখন ডিজিটাল প্রমাণে

তদন্তে পুলিশ এখন নজর দিচ্ছে মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড, সিসিটিভি ফুটেজ ও ডিজিটাল প্রমাণে। ঘটনার সময় কে কোথায় ছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, কিছু গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল তথ্য ইতিমধ্যেই হাতে এসেছে যা তদন্তে সাহায্য করবে।


ঘটনার প্রেক্ষাপটে নতুন প্রশ্ন

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দুর্গাপুর মেডিক্যাল কলেজের পেছনের জঙ্গল এলাকায় রাতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেই। সেই জায়গাতেই নির্যাতিতাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন