মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নতুন মোড় নিল। ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ইরানের সঙ্গে গত মাসে হওয়া যুদ্ধবিরতি আর কার্যকর নেই। একইসঙ্গে তাঁর বিস্ফোরক দাবি, যদি কোনওভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়, তবে ইরানের বিরুদ্ধে এমন শক্তিশালী বোমা হামলা চালানোর নির্দেশ মার্কিন সেনাকে আগেই দিয়ে রাখা হয়েছে, যা আগে কখনও দেখা যায়নি। ট্রাম্পের এই মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম New York Post-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, বহু বছর ধরেই ইরান তাঁকে হত্যার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে দেখছে। যদিও বর্তমানে তাঁকে ঘিরে কোনও নতুন ষড়যন্ত্রের নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য তাঁর হাতে নেই বলেও জানান তিনি। তবুও পরিস্থিতিকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই বলেই ইঙ্গিত দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্পের কথায়, তিনি আগেই মার্কিন সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়ে রেখেছেন— যদি তাঁর ওপর প্রাণঘাতী হামলা সফল হয়, তাহলে ইরানের বিরুদ্ধে এমন মাত্রার সামরিক অভিযান চালানো হবে, যা আগে কখনও দেখা যায়নি। তাঁর এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অন্যদিকে, ইজরায়েলি গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ট্রাম্পকে হত্যার নতুন করে পরিকল্পনা করা হতে পারে। তবে সেই জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, তিনি বহুদিন ধরেই ইরানের তথাকথিত ‘হিট লিস্ট’-এর শীর্ষে রয়েছেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনের সময় স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে তিনি বলেন, “আশা করি, আমি না থাকলে আপনারা আমাকে মিস করবেন।”
এদিকে নিজের সামাজিক মাধ্যম Truth Social-এ পোস্ট করে ট্রাম্প জানান, ইরান আলোচনার প্রস্তাব দিলেও যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, দুই দেশের মধ্যে গত মাসে হওয়া যুদ্ধবিরতির অধ্যায় শেষ হয়েছে। তাঁর এই বার্তা এমন সময় সামনে এল, যখন নতুন করে ইরান-আমেরিকা সংঘাত তীব্র হয়েছে এবং তার প্রভাব ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজার ও বিশ্ব অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে।
পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা এখন নজরে গোটা বিশ্বের। কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা থাকলেও সামরিক সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা আগামী দিনে বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতির অন্যতম বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।






