সিপিএমে নতুন ধাক্কা? সদস্যপদ নবীকরণে অনিশ্চয়তা, দীপ্সিতা ধর কি অজন্তা বিশ্বাসের পথেই!

সদস্যপদ নবীকরণ না করায় জল্পনায় দীপ্সিতা ধর। সিপিএমে অবস্থান অনিশ্চিত, উত্তরপাড়া টিকিট নিয়েও বদলাচ্ছে সমীকরণ—রাজনীতিতে নতুন মোড়ের ইঙ্গিত স্পষ্ট।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

সিপিএমের অন্দরমহলে ফের জোর জল্পনা—দলীয় সদস্যপদ এখনও নবীকরণ করেননি দীপ্সিতা ধর। সময়সীমা হাতে থাকলেও তাঁর নীরবতা ও অনিশ্চিত অবস্থান ঘিরে প্রশ্ন উঠছে, তিনি কি ধীরে ধীরে দল থেকে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন? প্রাক্তন নেত্রী অজন্তা বিশ্বাসের মতোই কি অন্য পথে হাঁটার প্রস্তুতি নিচ্ছেন দীপ্সিতা—এই নিয়েই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা।

দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, সিপিএমের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে সদস্যপদ নবীকরণের সুযোগ থাকে। যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জানুয়ারির মধ্যেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে তা চূড়ান্ত রূপ পায়। সেই জায়গায় ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পেরিয়ে গেলেও দীপ্সিতার সদস্যপদ নবীকরণ না হওয়ায় প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

Shamim Ahamed Ads

উল্লেখযোগ্য বিষয়, দীপ্সিতার দলীয় সদস্যপদ পশ্চিমবঙ্গে নয়, দিল্লিতে। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই তাঁর সদস্যপদ সেখানে। তবে তিনি নিজে এই প্রসঙ্গে সরাসরি কোনও স্পষ্ট অবস্থান নেননি। তাঁর বক্তব্য, “৩১ মার্চ পর্যন্ত সময় রয়েছে। সদস্যপদ নবীকরণ দলীয় অভ্যন্তরীণ বিষয়।”

তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ‘সময় রয়েছে’ মন্তব্যই জল্পনাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। কারণ, তিনি এখনও পর্যন্ত নবীকরণ করেননি—এটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। দিল্লি সিপিএম সূত্রে খবর, তাঁর মতো অবস্থানে থাকা অনেকেই ইতিমধ্যেই সদস্যপদ নবীকরণ সম্পন্ন করেছেন।

দীপ্সিতার ঘনিষ্ঠ মহলে আবার অন্য ব্যাখ্যাও শোনা যাচ্ছে। দাবি করা হচ্ছে, ২০১৮ সাল থেকে তাঁর সক্রিয় শাখা স্তরের সংযোগ নেই এবং গত বছর জুলাইয়ের পর কোনও গণসংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত নন। ফলে দলীয় কাঠামোর মধ্যে নিজের অবস্থান নিয়ে তিনি অসন্তুষ্ট ও কিছুটা বিরক্ত।

এই প্রেক্ষাপটে প্রতীক-উর রহমানকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ঘনিষ্ঠদের মতে, দীপ্সিতা আপাতত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রতীক-উর ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের দিকেও নজর রাখছেন। সম্প্রতি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কসভা থেকেও তাঁর অনুপস্থিতি সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।

দলের একাংশের বক্তব্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে দীপ্সিতা ও সায়রা শাহ হালিমের রাজনৈতিক কার্যক্রমের মধ্যে তফাৎ খুব একটা নেই, কারণ দু’জনেরই সক্রিয় সদস্যপদ নেই। ফলে আদর্শগত জায়গা থেকে প্রশ্ন উঠছে—দলের ভিতরে সেই পরিসর না থাকলে ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনাই স্বাভাবিক।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক সমীকরণেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। একসময় জোর জল্পনা ছিল, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে হুগলির উত্তরপাড়া কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হতে পারেন দীপ্সিতা। লোকসভা নির্বাচনে শ্রীরামপুর কেন্দ্রে প্রার্থী হয়ে উত্তরপাড়ায় তিনি প্রায় ৫০ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছিলেন, যা তাঁকে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিল।

কিন্তু পরিস্থিতি বদলেছে। এখন উত্তরপাড়ায় সিপিএমের সম্ভাব্য মুখ হিসেবে উঠে আসছেন যুবনেত্রী মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এলাকায় তাঁর সক্রিয়তা ও সংগঠনমূলক কাজ সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। ফলে দীপ্সিতার সদস্যপদ নবীকরণ না হওয়াকে এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গেও যুক্ত করে দেখছেন অনেকে।

যদিও তাঁর ঘনিষ্ঠরা দাবি করছেন, তিনি কোনওভাবেই টিকিটের জন্য আগ্রহী নন। তবুও প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে—দলীয় ভবিষ্যৎ নিয়ে দীপ্সিতা কি নতুন সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছেন? নাকি শেষ মুহূর্তে নবীকরণ করে সব জল্পনার অবসান ঘটাবেন—তার উত্তর এখনও অজানা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত