দিলীপ ঘোষ বিতর্ক: বিজেপির অন্দরেই কি ষড়যন্ত্রের জাল? বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি ও মেদিনীপুরের প্রাক্তন সাংসদ দিলীপ ঘোষ সম্প্রতি ফের চর্চায়। সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে তাঁর ‘ব্যক্তিগত’ মুহূর্তের কিছু ছবি ও ভিডিও। দাবি করা হচ্ছে, এগুলো নাকি দিলীপ ঘোষের। কিন্তু তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য, এই ছবি-ভিডিও সম্পূর্ণ ভুয়ো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৈরি এবং ছড়ানো হয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠছে—এই কুৎসা ছড়ানোর উদ্দেশ্য কী? এবং এর নেপথ্যে কারা?
জনপ্রিয়তার শত্রু কি ঘরের মধ্যেই?
দিলীপ ঘোষ একজন খোলামেলা মন্তব্যের জন্য পরিচিত নেতা। তিনি প্রায়শই রাজ্য বিজেপির নেতৃত্ব ও গোষ্ঠীপতি রাজনীতিকে আক্রমণ করে থাকেন। উনিশের নির্বাচনে ১৮টি আসনের সাফল্যের পরও, দল যে ধীরে ধীরে নিচের দিকে যাচ্ছে—তা স্পষ্ট করে বলেছিলেন তিনিই।
তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, কীভাবে ১৮ আসন থেকে ১২ তে নেমে এল বিজেপি? কেন জনসমর্থন হ্রাস পাচ্ছে? এসব প্রশ্নই সম্ভবত তাঁর জনপ্রিয়তা অনেকের চোখে কাঁটা হয়ে উঠেছে।

পদ হারানো, একঘরে করা, প্রার্থী বদল — সবই ষড়যন্ত্র?
বিজেপির একাংশের অভিযোগ, দিলীপ ঘোষকে পরিকল্পিতভাবে দলে কোণঠাসা করা হয়েছে।
-
রাজ্য সভাপতির পদ হারিয়েছেন
-
ঘনিষ্ঠদের দলে প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে
-
লোকসভা ভোটে মেদিনীপুর ছেড়ে তাঁকে দুর্গাপুরে পাঠানো হয়
-
ভোটের পর কোনও সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়নি
-
এমনকি, জেলায় কর্মসূচি করলে কর্মীদের নিষেধ করা হত
এসব ঘটনা একটি ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিতই দেয়।
ভাইরাল ভিডিওর পেছনে বিজেপিরই কেউ?
যে ভিডিও ও ছবি সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়েছে, তাতে দাবি করা হচ্ছে সেগুলি দিলীপ ঘোষের। যদিও কোনো প্রামাণ্য ভিত্তি নেই।
দিলীপ ঘোষের ঘনিষ্ঠরা বলছেন, এগুলো ফেক এবং AI-এর সাহায্যে তৈরি হয়েছে। তাঁদের সন্দেহ, বিজেপির অভ্যন্তরীণ একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীই এই ঘটনার পেছনে। এই গোষ্ঠী চায় না, দিলীপ ঘোষ আবার দলের প্রথম সারিতে ফিরে আসুন।
দিলীপবাবুর বিয়ের পরেও তাঁকে নিয়ে নানা রকম কটাক্ষ চলেছিল সোশাল মিডিয়ায়, যা ছিল অত্যন্ত ব্যক্তিগত আক্রমণ। এবার ভিডিও ফাঁস করে তাঁকে পুরোপুরি রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টাও হতে পারে।
দিলীপের ‘চ্যালেঞ্জার’ ভূমিকা কি অনেকের সমস্যা?
দলের বর্তমান নেতৃত্বকে প্রকাশ্যে আক্রমণ করার সাহস খুব কম বিজেপি নেতাই দেখিয়েছেন। দিলীপ ঘোষ সে দিক থেকে ব্যতিক্রম।
তাঁর জনভিত্তি এখনও শক্তিশালী। মাঠে-ময়দানে তিনি দলীয় কর্মীদের প্রিয় মুখ। এই জনপ্রিয়তাই কি তাঁর শত্রু বাড়িয়েছে? যারা চান না বিজেপির অভ্যন্তরে কেউ বিরুদ্ধস্বরে কথা বলুক, তারা কি পরিকল্পনা করেই দিলীপ ঘোষকে বিতর্কিত করছেন?
দিলীপ সমর্থকদের দাবি: ‘‘এটি চরিত্র হননের চেষ্টা’’
দিলীপবাবুর অনুগামীরা বলছেন,
-
বিজেপিরই একটি গোষ্ঠী চাইছে তাঁকে পুরোপুরি নৈতিকভাবে ধ্বংস করতে
-
নির্বাচনের পর থেকেই তাঁকে একঘরে করার চেষ্টা চলছে
-
এবার সোশাল মিডিয়ার অপপ্রচার দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ শেষ করার ছক কষা হয়েছে
তাঁরা জানিয়ে দিয়েছেন, প্রয়োজনে দিলীপ ঘোষ আইনি পথে হাঁটবেন এই ভিডিও ফাঁসের বিষয়ে।
বিজেপির অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। কিন্তু দিলীপ ঘোষের মতো একজন হেভিওয়েট নেতার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপপ্রচারের ঘটনা নজিরবিহীন। এটি নিছকই তৃণমূলের চক্রান্ত নয়, বরং দলের ভিতর থেকেই কেউ কেউ চাইছেন তাঁকে রাজনৈতিক ভাবে শেষ করে দিতে।
সামনের দিনে দিলীপ ঘোষ এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেন, এবং তাঁর ভবিষ্যৎ ভূমিকা কী হয়, সেটাই এখন বাংলার রাজনৈতিক মহলের কৌতূহলের বিষয়।



