নজরবন্দি ব্যুরোঃ কমিশনের নিষেধাজ্ঞা আর কোভিড বিধিকে শিকেয় তুলে জনসভা করলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। কমিশন গতকাল জানিয়েছিল, রোড-শো, মিছিল ও সমাবেশ। এমনকী, বাইক বা সাইকেল নিয়ে এলাকা পরিক্রমাও করা যাবে না। যে সমস্ত রোড শো, মিছিলের অনুমোদন দেওয়া ছিল, সেগুলিও বাতিল করে দেয় নির্বাচন কমিশন। তবে, শর্ত সাপেক্ষে দুরত্ব বিধি মেনে সর্বোচ্চ ৫০০ জনকে নিয়ে জন সভা করা যাবে। গতকাল সন্ধে ৭ টা থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়ে যায়।
আরও পড়ুনঃ রাজ্য জয় করে সবাইকে ফ্রি-তে ভ্যাকসিন দেবেন দেশের প্রধানমন্ত্রী মোদী!!
কমিশনের নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে এদিন কুমারগঞ্জের রামকৃষ্ণপুরে বিজেপি প্রার্থী মানস সরকারের পক্ষে জনসভা করলেন দিলীপ ঘোষ। জনসভায় যখন ভোট প্রার্থী ভাষন দিচ্ছেন সামনে তখন হাজার দেড়েক লোক। কারও মুখে গামছা আবার কারও মুখে মাস্কই নেই! আর দূরত্ববিধি? মঞ্চের সামনে ১০০টির মত চেয়ার পাতা ছিল যেখানে দূরত্ববিধি মানা হয়েছে। কিন্তু ঠিক তাঁর পেছনে, গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে রয়েছেন হাজার খানেক মানুষ!

এদিকে গতকাল কমিশন আর বিজেপির গোপন বোঝাপড়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর প্রশ্ন, নরেন্দ্র মোদী সভা বাতিল করার পরেই প্রচারে নিষেধাজ্ঞা কমিশনের! কেন? গতকাল কমিশন নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করার কিছুক্ষন আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তার সভা বাতিল করার কথা ঘোষণা করেন। শুক্রবার রাজ্যে চারটি সভা করার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। কিন্তু গতকাল সন্ধ্যায় ট্যুইট করে সেগুলি বাতিল করেন তিনি। আর তার কিছুক্ষন পরেই দেখা যায় নির্বাচন কমিশন করোনা সম্পর্কিত নয়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে! এই ঘটনা কাকতালীয় নাকি পেছনে আছে ষড়যন্ত্র তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের কাছে জানতে চেয়েছেন, নরেন্দ্র মোদী সভা বাতিল করার পরেই কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হল? গোপন নিবিড় সম্পর্ক? নির্বাচন কমিশন অনেক আগেই এই সিদ্ধান্ত নিতে পারত। অভিষেকের ইঙ্গিত, নির্বাচন কমিশন প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আলচনা করেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যেহেতু সভা করবেন না বলে জানিয়েছেন মোদি সেক্ষেত্রে কমিশন নিষেধাজ্ঞা না দিলে অন্য রাজনৈতিক দল সভা চালিয়ে যেতে পারত নিজেদের মত করে। সেক্ষেত্রে প্রচারে পিছিয়ে পড়ত বিজেপি। তাই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল বলে মত অভিষেকের।



