বিধানসভা ভোটের আগে দিলীপ ঘোষকে ঘিরে “নতুন দল গড়ছেন?”— এমন গুঞ্জন রাজ্যজুড়ে চলছিল। মঙ্গলবার সকালে ভাগ করা প্রাতঃভ্রমণে সাংবাদিকদের মুখোমুখি তিনি এই জল্পনা একেবারেই উড়িয়ে দিলেন। “আমি দল দাঁড় করিয়েছি। দল গঠন করিনি। এর দরকারও নেই।”
“৭০ বছর ধরে লড়াই করে একটা দল তুলে এনেছি—বিজেপি। এই দলই বাংলার মানুষের স্বপ্ন পূরণ করবে।”
প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি হওয়া সত্ত্বেও দিলীপ সাফ জানালেন, রাজ্যে যতই কোণঠাসা পরিস্থিতি হোক না কেন, তিনি বিজেপিতে রয়েই চলেছেন। “নতুন দলের চিন্তা নেই,”— স্পষ্ট ভাষায় বললেন তিনি।
গুঞ্জনের উত্থান: “বাংলা হিন্দুসেনা”
শুনা গিয়েছে, দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে হতে পারে “পশ্চিমবঙ্গ হিন্দুসেনা” নামে একটি নতুন দল। এমনকি গোপন বৈঠকেও অংশ নিয়েছেন বলে দাবি সংবাদমাধ্যমে।
তবে দিলীপ-এর মন্তব্য—“বিজেপি ও তার সিদ্ধান্তের ওপর আমার সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে।”
বিজেপি-বিজেপির ভিতরে দ্বন্দ্ব
দিলীপ ঘোষ ও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব—মোদি ও শাহের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েন চলে আসছিল। মোদি-শাহের বঙ্গ সফরেও দিলীপের উপস্থিতি চোখে পড়েনি, যা নিয়ে অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল।
কিন্তু আরএসএস নেতৃত্ব তাঁকে স্বতন্ত্র কাজের পরামর্শ দিয়েছেন বলে খবর। দিলীপ নিজেই জানান,“কারও ভালো হলে আমি অপছন্দ করব না, তবে দল ছেড়েই দিলে বাংলার মানুষের ক্ষতি হবে।”
দিলীপের মন্তব্য, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
দিলীপ ঘোষ সাংবাদিকদের বলেছেন, “দল হালকা করাটা ভাল না। বরং একত্রে থেকে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দিলীপ ‘বিজেপির মধ্যে থেকেই নিজের জায়গা ধরে রাখবেন’—ইত্যাদি রাজনৈতিক হাওয়া ঠেকাতে তিনি এমন বক্তব্য দিয়েছেন।
কিছুকিছু প্রশ্ন এখন টিকে আছে:
পরবর্তী বিধানসভা ভোটে দিলীপের ভূমিকা কী হবে?
বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বে কীভাবে নতুন ভারসাম্য গড়ে উঠবে?
“বাংলা হিন্দুসেনা” গোষ্ঠী কি ডানপন্থী ভাবনায় উঠে আসবে?
এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে আগামী রাজনীতি উত্তাপের মধ্যেই।



