বড়দিন ও ইংরেজি নববর্ষের ছুটিতে পর্যটকের ঢল নামবে দিঘা–মন্দারমনিতে—এ কথা মাথায় রেখেই আগাম রণকৌশল ঠিক করল জেলা প্রশাসন। উৎসবের মরশুমে হোটেল ভাড়া বাড়ানো, পর্যটকদের ঠকানো কিংবা বেআইনি নির্মাণের মতো অভিযোগ যাতে আর না ওঠে, সে জন্য এবার কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের স্পষ্ট বার্তা, উৎসবের অজুহাতে কোনও অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি দিঘায় একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক, পুলিশের শীর্ষ কর্তারা, দিঘা উন্নয়ন পর্ষদের প্রতিনিধিরা এবং হোটেল মালিক সংগঠনের সদস্যরা। সেখানেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পর্যটকদের সঙ্গে প্রতারণা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট হোটেল বা লজের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হোটেলে ভাড়ার তালিকা টাঙানো বাধ্যতামূলক
নির্দেশ অনুযায়ী, দিঘা ও মন্দারমণির সমস্ত হোটেল ও লজে ঘরের ভাড়ার তালিকা বাধ্যতামূলক ভাবে দৃশ্যমান জায়গায় টাঙাতে হবে। পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ পেলেই তাৎক্ষণিক তদন্ত শুরু হবে। ভাড়া সংক্রান্ত প্রতারণার প্রমাণ মিললে প্রশাসনের তরফে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট করা হয়েছে।
পর্যটকদের অভিযোগ জানানোর জন্য বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থাও চালু করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উৎসবের দিনগুলিতে পর্যটক হয়রানি রুখতেই এই ব্যবস্থা।
শুধু হোটেল ভাড়া নয়, মন্দারমণিতে বেআইনি নির্মাণ নিয়েও কড়া অভিযান শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই একাধিক অবৈধ নির্মাণ বন্ধ করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। উপকূলবর্তী এলাকায় পরিবেশ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
ছুটির মরশুমে ভিড় নিয়ন্ত্রণে দিঘা ও মন্দারমণিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত করা।
প্রশাসনের এই কড়া অবস্থানে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন পর্যটকদের একাংশ। তাঁদের কথায়, প্রতি বছর উৎসবের সময় ভাড়া নিয়ে সমস্যার মুখে পড়তে হয়। এবার যদি নিয়ম কঠোর ভাবে কার্যকর হয়, তবে দিঘা–মন্দারমণিতে বেড়াতে আসা অনেকটাই নিশ্চিন্ত হবে।



