দিল্লির লালকেল্লা বিস্ফোরণ কাণ্ডে বড় পদক্ষেপ নিল পুলিশ। হুন্ডাই i20 গাড়ির মালিক মহম্মদ সলমনকে রবিবার রাতে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বিস্ফোরণের সময় যে সাদা রঙের আই-২০ গাড়িটি ঘটনাস্থলে ছিল, সেটির নম্বর HR26CE7624, অর্থাৎ গাড়িটি হরিয়ানায় নথিভুক্ত।
সোমবার সন্ধ্যায় লালকেল্লার ১ নম্বর গেটের সামনে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে (সরকারি হিসেবে মৃত ৮), আহত অন্তত ২৪। ঘটনাস্থলে মুহূর্তে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, একটি গাড়ি ধীরে সিগন্যালের সামনে থামার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই প্রবল বিস্ফোরণ ঘটে।
তদন্তে নামল একাধিক সংস্থা, আটক সলমনের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে
বিস্ফোরণের পরই তদন্তে নামে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল ক্রাইম ব্রাঞ্চ, ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA), ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড (NSG) এবং ফরেনসিক বিভাগ। গাড়ির নম্বরপ্লেট থেকে সূত্র ধরে হরিয়ানার বিভিন্ন জেলায় তল্লাশি চালায় পুলিশ এবং শেষ পর্যন্ত রাত সাড়ে দশটার পর মহম্মদ সলমনকে আটক করা হয়।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সলমনকে দিল্লিতে আনা হয়েছে এবং তাঁর জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তাঁর সঙ্গে কোনও জঙ্গি সংগঠনের যোগ আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, তাঁর মোবাইল ফোন, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও কল রেকর্ডও পরীক্ষা করছে এনআইএ।
অমিত শাহের নজরদারিতে তদন্ত
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজে তদন্তের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছেন। বিস্ফোরণের কিছুক্ষণের মধ্যেই শাহ ফোনে কথা বলেন দিল্লির পুলিশ কমিশনার সতীশ গোলচা এবং এনআইএ-র শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে। পরে তিনি ঘটনাস্থলে এবং হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজ নেন।
অমিত শাহ বলেন, “সমস্ত তদন্তকারী সংস্থা একযোগে কাজ করছে। এলাকার প্রতিটি CCTV ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে যা উঠে আসবে, তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।”
বিস্ফোরণের মুহূর্ত: পর্যটকে ভরা লালকেল্লা, আতঙ্কে শহর
বিস্ফোরণের সময় লালকেল্লার সামনে প্রচুর পর্যটক উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়রাও সন্ধ্যা উপভোগ করছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। একসঙ্গে তিনটি গাড়ি আগুনে জ্বলে ওঠে, আশপাশের ২২টি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত লোকনায়ক জয়প্রকাশ নারায়ণ হাসপাতালে পাঠান। দমকলের ২০টি ইঞ্জিন দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, গাড়ির ভিতরে বিস্ফোরক ডিভাইস বা টাইমার বসানো থাকতে পারে।
নাশকতার সম্ভাবনা জোরালো
তদন্ত সূত্রে খবর, এটি নাশকতা হতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাড়ির ভিতরে বিস্ফোরণের ধরণ দেখে বোঝা যাচ্ছে এটি সাধারণ দুর্ঘটনা নয়। NIA ও NSG ইতিমধ্যে বিস্ফোরণস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে এবং ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে।
দিল্লি পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “এটি অত্যন্ত শক্তিশালী বিস্ফোরণ ছিল। ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত চলছে। কোনও সম্ভাবনাকেই আমরা উড়িয়ে দিচ্ছি না।”
রাজধানীতে চরম সতর্কতা জারি
বিস্ফোরণের পরে দিল্লি জুড়ে সতর্কতা জারি হয়েছে। সীমান্ত, রেলস্টেশন, বিমানবন্দর ও মেট্রো স্টেশনে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। তদন্তকারীরা আশঙ্কা করছেন, এটি কোনও বড় ষড়যন্ত্রের অংশও হতে পারে।
দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ডে আটক সলমনই কি মূল চক্রী? — এখন সেটিই খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা।







