দিল্লির ভয়াবহ কার বোমা হামলার তদন্তে সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীরের শোপিয়ানের মৌলবি ইমাম ইরফান আহমেদ ওয়াগে-ই সম্ভবত এই হামলার মূল মাস্টারমাইন্ড। দিল্লির হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই যে White Collar Terror Module-এর হদিশ পেয়েছিল গোয়েন্দারা, সেটির নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন এই ইরফানই।
শোপিয়ান জেলার নওগামে তার বাড়িতে যৌথ অভিযান চালায় Counter Intelligence Kashmir (CIK) এবং শ্রীনগর পুলিশের বিশেষ দল। অভিযানে ইরফানকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার স্ত্রীকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি, বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে পাঁচটি মোবাইল ফোন, যেগুলি হামলার প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ বহন করছে বলে জানা গেছে।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ডাক্তারি ছাত্রদের মগজধোলাই করাই ছিল তার মূল কাজ। এক সময় শ্রীনগরের সরকারি মেডিক্যাল কলেজে প্যারামেডিক্যাল কর্মী হিসেবে কাজ করত ইরফান আহমেদ। সেই সূত্রেই তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল বহু মেডিক্যাল শিক্ষার্থীর। সূত্রের বক্তব্য, ইরফানই প্রথম তাদের মধ্যে জেহাদি আদর্শ প্রচার করতে শুরু করে।
জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, ইরফান ছিলেন জৈশ-ই-মহম্মদ (Jaish-e-Mohammed) সংগঠনের আদর্শে অনুপ্রাণিত। সে তরুণ ডাক্তার ও মেডিক্যাল ছাত্রদের মধ্যে চুপিসারে মৌলবাদী চিন্তাধারা ছড়িয়ে দিত। Encrypted চ্যানেল ও গোপন টেলিগ্রাম গ্রুপে জৈশের প্রচারমূলক ভিডিও ও ধর্মীয় বার্তা পাঠাত সে।
নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, আফগানিস্তানের নাঙ্গারহার প্রদেশ থেকে নিয়মিত নির্দেশ আসত ইরফানের কাছে। কাকে কী কাজ দিতে হবে, কাদের মগজধোলাই করতে হবে—সব কিছুই নির্দিষ্ট করা হত সেই দিক থেকে। ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির অনুমান, ডাঃ মুজাম্মিল শাকিল এবং ডাঃ উমর নবি ভাট ইরফানের সঙ্গে মিলে এই প্রক্রিয়াকে আরও গভীরে নিয়ে যাচ্ছিলেন।
মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন ইরফান আহমেদ ওয়াগে, যিনি ‘মৌলবি ইমাম’ নামে পরিচিত। গোয়েন্দারা মনে করছেন, Delhi Car Bomb Blast-এর সমস্ত ছক ও পরিকল্পনা তার মগজ থেকেই বেরিয়েছে। স্থানীয় মসজিদে ইমাম হিসেবে কাজ করার আড়ালে সে তৈরি করেছিল একটি চক্র, যারা মেডিক্যাল ও ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করত।
সূত্র বলছে, ইরফান বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে জৈশ-ই-মহম্মদের প্রচার চালাত। ধর্মের নামে যুব সমাজকে উস্কানি দিয়ে সে চেষ্টা করত জঙ্গি সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত করতে। ভারতীয় গোয়েন্দারা এই নেটওয়ার্কের আরও সদস্যদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।
এই ঘটনায় দেশজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এখন দিল্লি বিস্ফোরণের পেছনের আন্তর্জাতিক যোগ ও সাইবার কমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, “এ ধরনের ‘White Collar Radicalization’ ভারতের জন্য এক নতুন বিপদ। চিকিৎসক, প্রকৌশলী বা উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মগজধোলাই করে এরা জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত করছে, যা আগে দেখা যায়নি।”
এই ঘটনার পর দেশজুড়ে মেডিক্যাল ও টেকনিক্যাল প্রতিষ্ঠানগুলিতে নজরদারি আরও কড়া হতে পারে, এমনই ইঙ্গিত মিলেছে গোয়েন্দা সূত্রে।







