NIOS এর ঘোষণায় বিপদে হাজার হাজার শিক্ষক। মামলা হল কলকাতা হাইকোর্টে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ NIOS এর ঘোষণায় বিপদে হাজার হাজার শিক্ষক। মামলা হল কলকাতা হাইকোর্টে। D.EL.ED পড়া শেষ। অথচ সার্টিফিকেট পাচ্ছেন না রাজ্যের হাজার হাজার প্রাথমিক এবং উচ্চ প্রাথমিকের শিক্ষক -শিক্ষিকারা। এনআইওএস(National institute of open schooling) এই সার্টিফিকেট প্রদান করছে না শিক্ষকদের। আর এই শংসা পত্র না পাওয়ার জন্যে একদিকে যেমন বর্ধিত বেতন থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে তাঁদের অন্য দিকে একইভাবে শিক্ষকতার চাকরি সংকটের মুখে দাড়িয়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে একান্ত বাধ্য হয়েই লকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করলেন ভুক্তভোগী শিক্ষক রা। চন্দন দাম, প্রদীপ রায় এবং ভাস্কর বিশ্বাস সহ বহু শিক্ষক এই মামলাটি করেছেন। মামলাতি লড়ছেন বিশিষ্ট আইনজীবী ফিরদৌস শামিম।

আরও পড়ুনঃ চাপের মুখে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত। চলতি মাসেই ৩০ হাজার নিয়োগ সিদ্ধান্ত রাজ্যের।

Shamim Ahamed Ads

NIOS এর ঘোষণায় বিপদে হাজার হাজার শিক্ষক। মামলাকারীদের বক্তব্য, তাঁরা চরম বিড়ম্বনার মুখে পড়েই আদালতের স্মরণ নিতে বাধ্য হয়েছেন। শিক্ষক শিক্ষিকারা জানিয়েছেন ২০০৯ সালে সালের শিক্ষার অধিকার আইন অনুয়ায়ী NCTE নোটিফিকেশন দিয়ে জানায় ৩১ মার্চ ২০১৯ সালের মধ্যে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাকে প্রশিক্ষিত হতে হবে। এদিকে কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক এনআইওএস কে প্রশিক্ষণের (D.EL.ED) দায়িত্ব দেয়।

সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী দু বছরের D.EL.ED কোর্সে ভর্তি হন লক্ষাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা। কিন্তু গত গত ৭ই অগাস্ট NIOS এর পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে ২০১৯ সালের মে মাসের মধ্যে যারা D.EL.ED প্রশিক্ষণ নিয়েছেন কিন্তু উচ্চমাধ্যমিকে ৫০ শতাংশের নিচে নাম্বার পেয়েছেন তাঁদের সার্টিফিকেট দেওয়া যাবে না। NIOS জানিয়েছে তাঁদের পুনরায় উচ্চমাধ্যমিকের পরীক্ষা দিয়ে পঞ্চাশ শতাংশের ওপর নাম্বার পেতে হবে। তবেই মিলবে D.EL.ED সার্টিফিকেট।

NIOS এর এই ঘোষণায় চরম বিপদে পড়েছেন হাজার হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা। শুধু তারাই নয় তাঁদের সাথে বিপদের মুখে প্রাক্তন সমরকর্মীরাও। কারন সমরকর্মীরা সাধারণত মাধ্যমিক যোগ্যতাতেই সেনাবাহিনীতে চাকরি পেয়েছিলেন। সেনাবাহিনীতে চাকরির মেয়াদ শেষে প্রাক্তন সমরকর্মী হিসাবেই তাঁরা প্রাথমিক স্কুলের চাকরিতে নিযুক্ত হয়েছিলেন। এই রকম পরিস্থিতিতে একমাত্র আদালতই পারে তাঁদের প্রতি সুবিচার করতে এই বিশ্বাস নিয়ে মামলা করেছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

মামলাকারীদের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম জানিয়েছেন, NCTEর বিজ্ঞপ্তি অনুয়ায়ী একজন প্রার্থীকে হয় উচ্চমাধ্যমিকে ৫০ শতাংশ নাম্বার পেতে হবে অথবা টিচার্স ট্রেনিং অথবা গ্রাজুয়েশন ও টিচার্স ট্রেনিং করতে হবে। সুতরাং গ্রাজুয়েশন থাকা মানে তার ন্যুনতম যোগ্যতা রয়েছে। যাঁদের এই ন্যুনতম যোগ্যতা রয়েছে তাঁদের সার্টিফিকেট অবিলম্বে দিয়ে উচিত। কিন্তু বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা কে সার্টিফিকেট দেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়েই তারা মামলা করেছেন। আগামী সোম বা মঙ্গলবার মামলার শুনানি হতে পারে ।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত