গোর্খাল্যান্ড নয়, বিজেপি কে উৎখাত করাই লক্ষ্য! মমতার পাশেই পাহাড়।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ গোর্খাল্যান্ড নয়, বিজেপি কে উৎখাত করাই লক্ষ্য! মমতা কে সমর্থন করুন, ভিড়ে ঠাসা জনসভায় এভাবেই গতকাল হুঙ্কার দিয়েছিলেন বিমল গুরুং। সেই নিয়ে জল্পনা শুরু হয় রাজ্য রাজনীতিতে। তৃণমূল বিরোধীরা প্রচার শুরু করে তাহলে গোর্খাল্যান্ড ইস্যু কে কি সমর্থন করছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়? আজ সেই জল্পনায় জল ঢেলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। পরিষ্কার ভাষায় আজ মমতা জানিয়েছেন, “আমি গোর্খাল্যান্ডের প্রতিশ্রুতি দিইনি, তাই ওখানে জিতিনি। পাহাড়ের সমস্যা সমাধান করলে আমরাই করব। ওরা পারবে না।” 

আরও পড়ুনঃ কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার বার্তা রাহুলের, ‘আমি অপারগ’ জানালেন শুভেন্দু!

কার্যত গুরুং কে প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখেন তিনি, কিন্তু সত্যিই কি গুরুং গোর্খাল্যান্ড চাইছেন এখন? কারন বিমল গুরুং জানিয়েছেন বিজেপি বাংলাকে দুভাগ করতে চাইছে। বাংলাকে ভাগ করতে দেবনা। তিনি বলেন বিজেপি এখন দু-মুখো রাজনীতি করে চলেছে। এতদিন আশা দিয়েও তারা কথা রাখে নি। পাহাড়ের মানুষের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এতদিন যারা এক কথা বলেছিলো এখন তারাই উলটো সুরে গান গাইছে।

গুরুং স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন আগামী দিনগুলোতে তারা তৃণমূলের সাথেই থাকতে চান। এখন তাদের একমাত্র লক্ষ্য পাহাড় থেকে সমূলে বিজেপিকে উৎখাত করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথা তৃণমূলের হাতে সর্বময় ক্ষমতা তুলে দেওয়া। কারন হিসেবে বিমল বলেন যতদিন বিজেপি থাকবে পাহাড়বাসী শান্তিতে থাকতে পারবে না। তাই আগামী নির্বাচনগুলিতে গুরুং ডুয়ার্সের মানুষদের তৃণমূলের সাথে থাকবার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, পাহাড়ে বিমল গুরুং আসার পর থেকেই যেমন গুরুঙ্গ সমর্থকদের উৎসাহ বেড়ে গেছে তেমনি সমস্যা বেড়েছে বিরোধী শিবিরে। একদিকে পাহাড়ে মোর্চা সমর্থকদের শক্তি বেড়ে গেছে অন্যদিকে আবার পাহাড়ে গুরুং বিরোধীরা হতাস হয়ে পড়ছেন। মোট কথা গুরুং আসার পরে শুধু পাহাড় কেন গোটা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হতে চলেছে।

গোর্খাল্যান্ড নয়, বিজেপি কে উৎখাত করাই লক্ষ্য! গুরুং নিজে জনসভাতে তৃণমূলকে সমর্থন করায় বিরোধী বিজেপী শিবির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তেমনি তৃণমূলের অন্দরেও বিক্ষোভ বাড়ছে। তবে গুরুং ক্ষোভে বিনয় পন্থীরা খানিক বিদ্রোহ করলেও ফায়দা নেওয়ার মত যায়গায় নেই বিজেপি। বরং এই মুহুর্তে পাহাড়ে বিজেপি কার্যত কোন্ঠাসা হয়ে পড়েছে। নিজেদের মধ্যে সমস্যা থাকলেও বিমল এবং বিনয় দুজনের লক্ষ্যই পাহাড়কে বিজেপি-মুক্ত করা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন