নজরবন্দি ব্যুরোঃ মহামিছিলের পর বকেয়া ডিএ-র (DA Agitation) দাবিতে আন্দোলনের ঝাঁঝ আরও তীব্র করার কথা ভাবছে যৌথ সংগ্রামী মঞ্চ। রাজ্যজুড়ে ডিএম অফিস ঘেরাও (DM Office Gherao) এবং অবস্থানের কথা ভাবা হচ্ছে বলে জানালেন যৌথ সংগ্রামী মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ। এদিন ভাস্কর বলেন, বকেয়া ডিএ-র দাবিতে গত কালের পর এবার লাগাতার কর্মবিরতির কথাও ভাবা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হয়নি।
আরও পড়ুনঃ পৃথাকে মনে আছে? এবার প্রাথমিক শিক্ষকদের হকের দাবিতে পথে নামছে ‘আমরা’
সবার সাথে বৈঠক করেই পরবর্তী রণকৌশল ঠিক হবে। গত কালই হরিশ মুখার্জি রোড দিয়েই বকেয়া ডিএ-র দাবিতে মহামিছিল নিয়ে গিয়েছেন রাজ্য সরকারের হাজার হাজার কর্মচারী। শনিবার দুপুর ১ টা ৩৫-এ মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির কাছ দিয়ে যায় সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের প্রতিবাদ মিছিল। সূত্রের খবর, সেই সময়ে বাড়িতেই ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকালের মিছিলের পরেই আগামী ২ মাসের জন্যে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

তবে শুধু মুখ্যমন্ত্রী নন, তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায় যখন মুর্শিদাবাদে নব জাগরণের বার্তা দিচ্ছেন, তখন হরিশ মুখার্জি রোডে, তাঁর বাড়ি শান্তিনিকেতনের পাশ দিয়েও যায় সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের বিরাট মিছিল। মিছিলের জন্য় অভিষেকের বাড়ি কড়া পুলিশি পাহাড়ায় মুড়ে ফেলা হয়েছিল। অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের বাড়ি থেকে কিছুটা এগিয়ে মিছিল থেকে ওঠে চোর স্লোগান।

একদিকে যখন ডিএ-র দাবিতে মিছিল থেকে সরকার বিরোধী স্লোগান ওঠে। মিছিলের পর সংগ্রামীদের মঞ্চে দেখা যায় সমস্ত বিরোধী দলকে এককাট্টা হতে। শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দেন এবার লক্ষ্য কালীঘাটের গলি। আন্দোলনকারীদের কুর্নিশ জানান তিনি। দুপুর ২.১৫ নাগাদ ৭১ নং ওয়ার্ডের তৃণমূল কার্যালয়ের সামনে দিয়ে এগিয়ে যায় মিছিল। সেই এলাকাও যথেষ্ট স্পর্শকাতর হওয়ায় বাড়তি সতর্ক ছিল প্রশাসন। সব মিলিয়ে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের মিছিল পরিণত হয় জনজোয়ারে।
এবার রাজ্যের সব DM অফিস ঘেরাও, বকেয়া ডিএ-র দাবিতে তীব্রতর হবে আন্দোলন

আদালতের অনুমতিতে হাজরা ফায়ার ব্রিগেড থেকে শুরু করে, হরিশ মুখার্জি রোড, ডি এন রোড, এস পি মুখার্জি রোড হয়ে হাজরা মোড় পর্যন্ত মিছিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বেলা ১২টা নাগাদ ধর্নামঞ্চ থেকে রওনা দিয়ে হাজরা মোড়ে জড়ো হন আন্দোলনকারীরা। দুপুর ১টা নাগাদ সেখান থেকে শুরু হয় মিছিল। সপ্তাহ দুয়েক আগে এই মিছিলের ডাক দেয় সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। পুলিশের অনুমতি না মেলায়, হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় তারা। সেখান থেকেই মেলে অনুমতি। গতকালের মিছিল কার্যত বুক কাঁপিয়ে দিয়েছে শাসকের, বলছে ওয়াকিবহাল মহল।



