পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর আবেগঘন বার্তা দিলেন C. V. Ananda Bose। রাজ্য ছাড়ার আগে পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে উদ্দেশ করে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন তিনি। সেই চিঠিতে রাজ্যের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা এবং বাংলার সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরেছেন। চিঠির শেষে তিনি রাজ্যবাসীর মঙ্গল কামনা করে লিখেছেন—“মা দুর্গা আমার জনগণকে রক্ষা করুন।”
২০২২ সালের নভেম্বরে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন আনন্দ বোস। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি বারবার বাংলার প্রতি নিজের টান এবং ভালোবাসার কথা উল্লেখ করেছেন। প্রায় তিন বছর চার মাস দায়িত্বে থাকার পর পদ ছাড়লেও, রাজ্যের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কখনও শেষ হবে না বলেই জানিয়েছেন তিনি।
চিঠির শুরুতেই পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে ‘আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা’ বলে সম্বোধন করেন আনন্দ বোস। তিনি লিখেছেন, রাজ্যপাল হিসেবে তাঁর দায়িত্বের অধ্যায় শেষ হলেও বাংলার সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্ক অটুট থাকবে। পশ্চিমবঙ্গকে তিনি নিজের ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ বলেও উল্লেখ করেছেন।
চিঠিতে রাজ্যের মানুষের আন্তরিকতা ও উষ্ণতার কথাও স্মরণ করেছেন তিনি। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ, শিশুদের উচ্ছ্বাস, তরুণদের দৃঢ় করমর্দন এবং প্রবীণদের স্নেহময় দৃষ্টির স্মৃতি তাঁর কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে উল্লেখ করেন।
এই প্রসঙ্গে তিনি Mahatma Gandhi-র একটি উক্তিও উল্লেখ করেন। গান্ধীর কথায়, “আমি বাংলাকে ছেড়ে যেতে পারি না, আর বাংলা আমায় যেতে দেবে না।” সেই অনুভূতিই তাঁর মনেও কাজ করছে বলে জানান তিনি।


চিঠিতে তিনি Rabindranath Tagore-এর একটি বিখ্যাত ভাবনার কথাও তুলে ধরেন, যেখানে শ্রমজীবী মানুষের মধ্যেই ঈশ্বরের উপস্থিতির কথা বলা হয়েছে। গত তিন বছরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা সফর করে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মিশেছেন বলেও জানান।
গ্রামের মানুষের ঘরে বসে খাওয়া, ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে অত্যন্ত মূল্যবান বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন তিনি।

চিঠির শেষ অংশে তিনি বলেন, বাংলার মানুষ তাদের সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে গর্বিত—যা এই রাজ্যের মানসিকতার পরিচয় বহন করে। ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গ আরও উন্নতি ও গৌরবের পথে এগিয়ে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সবশেষে তিনি রাজ্যবাসীর সুস্বাস্থ্য, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে লেখেন—“মা দুর্গা আমার জনগণকে রক্ষা করুন।”








