কাটমানি এবার ভোট কর্মীদের খাবারেও, মিল পিছু ১৩০ টাকা ফেরাচ্ছে কর্তৃপক্ষ!

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ ভোটের ডিউটি করার আগে যে ট্রেনিং হয়। সেই ট্রেনিং ঘিরে শুরু হয়েছে অচলাবস্থা। একাধিক জায়গায় মিল অর্থাৎ খাওয়ার নিয়ে ট্রেনার এবং ভোট কর্মীদের মধ্যে বচসা হয় গতকাল। অভিযোগ ১৭০ টাকা সরকারি অ্যালোটমেন্ট থাকলেও যে খাওয়ার প্যাকেট দেওয়া হচ্ছে তাতে সাকুল্যে সামগ্রী রয়েছে মাত্র ২০-৪০ টাকার। কাটমানি এবার ভোট কর্মীদের খাবারেও, শিক্ষক সহ ভোট কর্মীদের প্রশ্ন বাকি ১৩০ বা ১৫০ টাকা যাচ্ছে কোথায়।

আরও পড়ুনঃ ভোটের ডিউটি থেকে অব্যাহতি চেয়ে আদালতে শিক্ষক সংগঠন! এখানেও বৈষম্য…

কাটমানি এবার ভোট কর্মীদের খাবারেও, এই নিয়ে হুলস্থুল পড়ে গতকাল। একাধিক ট্রেনিং সেন্টারে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন ভোট কর্মীরা। অভিযোগ ওঠে যারা ট্রেনিং দিচ্ছেন তাঁরা পাচ্ছেন বিরিয়ানি আর ট্রেনিং নিতে যারা এসেছেন তাঁদের জন্যে বরাদ্দ ডিম রুটি আর কলা। একাধিক যায়গায় বিক্ষোভ দেখিয়ে অভুক্ত থাকেন ভোট কর্মীরা। চলে তীব্র প্রতিবাদ। অনেকে যায়গায় খাবার ফিরিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়।

এদিকে বিক্ষোভের খবর কানে যায় ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের। প্রশ্ন ওঠে বরাদ্দ যেখানে ১৭০ টাকা সেখানে তাহলে বাড়ি টাকা গেল কোথায়? প্রশ্ন ওঠে কাটমানির। আর শেষে এই কাটমানি খোঁচাতেই হল কাজ। ভোট কর্মীরা ফেরত পেলেন টাকা। আলিপুরদুয়ার জেলার ম্যাক্ উইলিয়াম স্কুলে ইলেকশন ট্রেনিংএ ৫০/-টাকার টিফিন প্যাকেট নিয়ে ভোটকর্মীরা বিক্ষোভ দেখান। শেষমেষ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভ সামাল দিতে এসে টিফিন প্যাকেটে কারচুপির কথা কার্যত মেনে নিয়ে (১৭০-৪০=) বকেয়া ১৩০টাকা ভোটকর্মীদের নিজ নিজ ব্যাঙ্ক অ্যকাউন্টে দিয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন।

WhatsApp Image 2021 02 23 at 6.13.23 AM

মালদা জেলায় প্রশ্ন তোলায় আধিকারিকরা ভোট কর্মীদের অসম্মানজনক উক্তি করেন। ফলে সেখানেও বাদানুবাদ সৃষ্টি হয়। কোচবিহার জেলায় মাত্র কুড়ি টাকার টিফিনবাক্স তুলে দেওয়া হয় ভোট কর্মীদের হাতে। ফলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একইভাবে মুর্শিদাবাদ সহ বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ এর চিত্র উঠে আসছে। অনেক জেলায় চা বিস্কুট ছাড়া অন্য কিছু ছিল না।

শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী-শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের রাজ্য সম্পাদক কিংকর অধিকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “আমরা জেলায় আধিকারিকদের এই আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এই অস্বচ্ছতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে প্রতিটি ভোট কর্মীর একাউন্টে বরাদ্দ অর্থ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত