ব্রিগেডের ভিড় ভোটব্যাঙ্কে আসুক, নীচুতলার কর্মীদের নিয়ে সম্মেলন করবে CPM

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেমে গ্রেফতার সুজন সহ একগুচ্ছ বাম নেতা-কর্মী।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেমে গ্রেফতার সুজন সহ একগুচ্ছ বাম নেতা-কর্মী।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ ব্রিগেডের ভিড় ভোটব্যাঙ্কে আসুক, আর সেই কারণেই দূরত্ব মেটাতে তৃণমূল স্তরের মেহনতী মানুষদের সঙ্গে সম্মেলন করবেন CPM-এর শীর্ষনেতারা, নতুন শরুর পথ খুঁজতে গিয়ে নানা মুনির নানা মতে হারিয়ে যেতে যেতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে আলিমুদ্দিন, হারের বিপর্যয় আর ঘুরে দাঁড়ানোর উপায় খুঁজতে গিয়ে যে কয়েকটি বিষয় উঠে এসেছে, যারা ফের শহরের রাজপথ থেকে সিপিএমকে পৌঁছে দিতে পারে ক্ষমতায়, তাদের মধ্যে প্রধান হয়ে উঠেছে নীচুতলার মানুষদের সঙ্গে নিবিড় জনসংযোগ।

আরও পড়ুনঃ লালের হাল ফেরাবে মীনাক্ষী-ঐশী-শতরুপরা, বড় দায়িত্ব দিচ্ছে আলিমুদ্দিন।

দীর্ঘদিন বামেরা শাসন চালিয়েছে বাংলায়, তার পর ১০ বছরের মমতা জামানা। এই ১০ বছরে নিজেদের পুরানো জায়গায় ফেরার দিকে এগোনর বদলে বহু যোজন পিছিয়ে গিয়েছে বামেরা। বিরোধী দল থেকে ৭ শতাংশ থেকে এখন নেমে গিয়ে ৪.৬২। অস্ত্বিত্বের তলানিতে ঠেকেছে সংগঠন। অথচ ব্রিগেড ভরে লাল ঝান্ডায়, গ্রমের লাল পতাকা বাঁধা গাছতল থেকে মহানগরের বাস, তারস্বরে বাজে টুম্পা সোনা। কেবল ভোট ব্যাঙ্কে ভোট আসেনা।

আর এই হাজার হাজার মেহনতি মানুষ, টুম্পা সোনা সকলেই ব্রিগেডে এলেও ভোট বক্সে কেনো আসেনি, নির্বাচনের ফলাফলের এক মাস পরে তা নিয়ে বৈঠকে বসেছিল আলিমুদ্দিন। তবে এবারের আলিমুদ্দিনের বৈঠকে পরামর্শ আর নিদানের থেকে বেশি শোনা গেছে অভিমান আর অভিযোগ। শোনা গেছে দলের এই হারের কারণ হিসেবে অহংকার আর পতনের সমানুপাতিক সম্পর্কের সমীকরণ।

জেলা নেতারা নির্বাচনের আগে থেকেই ISF এর সঙ্গে জোট নিয়ে এক প্রকার চটে লাল ছিলেন, এতোদিন বলতে পারেননি, প্রকাশ্যে দলের আত্মসমালোচনা করে কেউ তন্ময় ভট্টাচার্য্যের পরিস্থিতিতে যেতে চান না। সব মিলিয়ে সেদিনে ভার্চুয়াল বৈঠকে জেলার নেতারা একপ্রকার কাঠ গড়ায় তুলেছেন শীর্ষ নেতৃত্বকে। জোট গঠনের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তাই ব্যার্থতার দায়ভার তাঁদের বলে মত দেন বেশিরভাগ জেলার নেতারা। প্রশ্ন ওঠে পীরজাদাকে বেশি প্রাসঙ্গিকতা দিতে গিয়ে কেন অন্যদের অপমান করা হল সে প্রসঙ্গ নিয়েও।

তবে একতরফা তৃণমূল বিরোধীতা ভুল হয়েছে, মানলেন সূর্য বাবুরা। শনিবার সিপিআইএম রাজ্য কমিটির সভায় কমবেশি মেনে নেওয়া হয়েছে তৃণমূলের উগ্র বিরোধীতা মানুষ ভালভাবে নেননি, সঙ্গে নতুন পথে সওয়ার হতে লালের হাল ফেরাবে মীনাক্ষী-ঐশী-শতরুপরা, বড় দায়িত্ব দিয়েছে আলিমুদ্দিন। শতরুপের পাশাপাশি এই নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন ঐশী, দিপ্সীতা, মিনাক্ষী, সৃজন, প্রতীকুর, সায়নদ্বীপ সহ একঝাঁক কাঁচা মুখ। এবং নির্বাচন কাল সমীক্ষা করলে দেখা যায়, ভোটের প্রচারে এইসব নতুন মুখের উদ্যাম, স্লোগানের ঝাঁঝ, পতিপক্ষকে আক্রমনের তীব্র অথচ মার্জিত ধরণ বেশ ভালো আলো কেড়েছিলো। গোটা নির্বাচন কাল এবং তার পরেও শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি সমান প্রচারে রয়েছেন ওই নতুন জ্বলে ওঠা মুখগুলি।

ব্রিগেডের ভিড় ভোটব্যাঙ্কে আসুক, শনিবারের বৈঠকে কর্মীদের নতুন কোন পথের দিশা দেখাতে পারেনি রাজ্য নেতৃত্ব। তবে নতুন পথের দিশা খুঁজতে নতুন মুখেদের দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি আলিমুদ্দিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন পথে চলতে এবার নীচুতলার মানুষদের সঙ্গে কথা বলবে। সুর্যকান্ত মিশ্র জানিয়েছেন,  একেবারে তৃণমূল স্তরের সকল কর্মীদের সঙ্গে বসে সম্মেলন হবে, মতামত নেওয়া হবে, আবেগের লাল নিয়ে কী ভাবছেন তাঁরা। কোন ধরণের দল, কোন নীতির পরিবর্তন চাইছেন। করোনার বাড়াবাড়ি কিছুটা কমলেই শুরু হবে এই মতামত প্রদাণ। অনেকেই এই বিষয়ে সদর্থক দিক দেখছেন। কারণ দলের ভরাডুবির কারণ হিসেবে সিপিএম এর অনেক নেতাই মনে করেন, অহংকার নিয়ে গ্রাউন্ড লেভেলের কর্মীদের থেকে অনেক দূরে সরে গেছেন আলিমুদ্দিনের নেতারা। সেই দূরত্ব যদি কিছুটা মেটে এই মত বিনিময়, সম্মেলনের মাধ্যমে। তাহলে হয়ত ব্রিগেডের জড়ো হয়া সকলে আবার ফিরবেন বামেদের ভোট ব্যাঙ্কে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here