ভোটের ময়দানে শূন্যের গেরো কাটাতে মরিয়া চেষ্টা—হুমায়ুন কবীর ও কংগ্রেস অধ্যায় কার্যত বন্ধ। আর সেই শূন্যতা ভরাট করতেই এবার মিমের দরজায় ফোন সিপিএমের। রাজ্য রাজনীতিতে এই নতুন সমীকরণ ঘিরে শুরু হয়েছে প্রবল জল্পনা, অস্বস্তিতে বামফ্রন্টের শরিকরাও।
ঘরে-বাইরে চাপের মুখে হুমায়ুন কবীর এখন আলিমুদ্দিনে ‘ক্লোজড চ্যাপটার’। কংগ্রেসও সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা আর সিপিএমের সঙ্গে জোটে নেই। ফলে রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম–এর সামনে কার্যত বন্ধ রাস্তা। সেই পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মালদহ-মুর্শিদাবাদে প্রভাব বাড়াতে সক্রিয় মিম–এর দিকেই ঘুরেছে সিপিএমের নজর। সেলিমের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তির তরফে যোগাযোগ করা হয়েছে বলেই রাজনৈতিক মহলের খবর।
মিমের রাজ্য সভাপতি ইমরান সোলাঙ্কি ফোন পাওয়ার কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন, তিনি সিপিএম নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি বসতে চান। তাঁর কথায়, “আমি সভায় ছিলাম। তবে সিপিএম কী চাইছে, তা শুনতে প্রস্তুত। কলকাতা বা মুর্শিদাবাদ—যেখানে চাইবে, সেখানেই বসব।” রাজনৈতিক মহলের মতে, পার্টির রাজ্য সম্পাদকের সম্মতি ছাড়া এমন যোগাযোগ হওয়া প্রায় অসম্ভব।
এই প্রেক্ষাপটে তৃণমূলের তীব্র কটাক্ষও সামনে এসেছে। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, “সিপিএম রাজনৈতিক ভিক্ষুকে পরিণত হয়েছে। একা লড়ার ক্ষমতা নেই বলেই কখনও হুমায়ুন, কখনও মিম—সবার কাছে ঘুরছে।” তাঁর কটাক্ষ, ভোটের আগে ‘মন বুঝতে’ই ব্যস্ত সিপিএম নেতৃত্ব।
বামেদের অন্দরেও অস্বস্তি কম নয়। একাংশের মতে, সেলিমের উদ্যোগেই এই ফোন। আবার শরিক দলগুলির প্রশ্ন—মুর্শিদাবাদে কখনও কংগ্রেস, কখনও হুমায়ুন, আবার এখন মিম—এত দিক পাল্টানো কেন? সিপিএম কি বুঝেই ফেলেছে, একা লড়ে কোনও আসনে জেতা কঠিন?
জোট জটিলতার তালিকায় রয়েছে আরও নাম। আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকি ৫০টি আসনে লড়ার দাবি জানানোয় চাপ বেড়েছে বামফ্রন্টে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঠে নামতে হয়েছে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু–কেও।
যদিও সেলিম নিজে মিমের সঙ্গে ফোনালাপের কথা অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, “আমাদের সঙ্গে নানা রকম জঞ্জাল জুড়ে দেওয়া হচ্ছে।” কিন্তু বাস্তবতা হল—একদিকে কংগ্রেস সরে যাওয়া, অন্যদিকে ‘যার-তার’ সঙ্গে জোটে শরিকদের আপত্তি—সব মিলিয়ে সিপিএম এখন শাঁখের করাতের দশায়। আগামী ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি রাজ্য কমিটির বৈঠকের আগেই জোট ও আসন বণ্টনের জট কাটাতে চাইছে বামেরা। তবে মিম-ফোন বিতর্কে সেই পথ যে আরও কঠিন হল, তা বলাই বাহুল্য।



