প্রতীকের পুরনো ছবি ভাইরাল করার মরিয়া চেষ্টা সেলিমপন্থীদের! আসল সত্য জানেন?

পুরনো ছবি ঘিরে সিপিএমে নতুন বিতর্ক, প্রতীক উর রহমানের দাবি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার—সেলিমকে কেন্দ্র করে দলীয় দ্বন্দ্ব আরও তীব্র

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

সিপিএমের অন্দরে দ্বন্দ্ব আরও প্রকট—সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি পুরনো ছবি ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকে নিশানা করে আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ালেন তরুণ নেতা প্রতীক উর রহমান। পাল্টা অভিযোগ, দলের একাংশ ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে এই ছবি ছড়াচ্ছে, যা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে।

ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একটি বইয়ের স্টলের উদ্বোধন করছেন প্রতীক উর রহমান। তাঁর পাশে রয়েছেন কলতান দাশগুপ্ত এবং পিছনে দাঁড়িয়ে আছেন মহম্মদ সেলিম। এই ছবি সামনে এনে সিপিএমের একাংশ দাবি করেছে, সেলিম নিজে উপস্থিত থেকেও তরুণ নেতাদের সামনে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন প্রতীককে। একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে এমন বার্তাও দেওয়া হয়েছে যে, প্রতীককে যথেষ্ট সম্মান ও গুরুত্ব দিয়েছিলেন রাজ্য সম্পাদক।

Shamim Ahamed Ads

তবে এই বয়ানের বিরোধিতা করেছেন প্রতীক নিজেই। তাঁর দাবি, ছবিটি অন্তত দু’বছর আগের এবং সেটি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটে তোলা। সম্ভবত শিয়ালদহ বা কলেজ স্ট্রিটের একটি বইয়ের স্টল উদ্বোধনের সময় এই ছবি তোলা হয়েছিল। প্রতীক জানান, তখন তিনি এসএফআইয়ের সভাপতি ছিলেন এবং ওই কর্মসূচিও ছাত্র সংগঠনেরই ছিল। তাঁর কথায়, “আমারই উদ্বোধন করার কথা ছিল। সেলিম সেখানেই পরে উপস্থিত হন।”

প্রতীকের এই বক্তব্যকে সমর্থন করছে দলেরই একটি অংশ। তাদের অভিযোগ, যারা এই ছবি ছড়াচ্ছে তারা সেলিমপন্থী এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রতীকের বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছে। প্রতীক ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, সেই সময়ের পরিস্থিতিকে বিকৃত করে এখন রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।

এদিকে এই ছবি ঘিরে ফের সামনে এসেছে দলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের প্রশ্ন। প্রতীক অভিযোগ তুলেছেন, যোগ্য নেতৃত্বকে যথাযথ জায়গা দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, “ছবিতে থাকা কলতান দাশগুপ্ত আজ কোথায়? তাঁকেও জায়গা দেওয়া হয়নি। একইভাবে আমাকেও দীর্ঘদিন কোণঠাসা করা হয়েছে।”

এই পরিস্থিতিতে সিপিএমের অন্দরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আরও প্রকাশ্যে চলে এসেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। সোশ্যাল মিডিয়ার এই ‘ছবি বিতর্ক’ যে ভবিষ্যতে আরও বড় রাজনৈতিক সংকেত বহন করছে, তা বলাই যায়।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত