বিধানসভা ভোটের আগেই বাম-আইএসএফ জোটে বড়সড় ফাটলের ইঙ্গিত। প্রার্থী নির্বাচন ঘিরে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়ে জোটসঙ্গীকে কার্যত সতর্কবার্তা দিল Communist Party of India (Marxist)। ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্রে আইএসএফ প্রার্থী হিসেবে আরাবুল ইসলাম-এর নাম ঘোষণার পর থেকেই শুরু হওয়া বিতর্ক এখন পৌঁছেছে চরমে।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন— এই প্রার্থীকে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, “যাকে পরাস্ত করতে লড়ছি, তাকেই সমর্থন করা যায় না। এটা সুস্থ রাজনৈতিক লক্ষণ নয়।” নাম না করলেও তাঁর মন্তব্য যে আরাবুল ইসলামকে লক্ষ্য করেই, তা স্পষ্ট।
সমস্যার সূত্রপাত হয় যখন Indian Secular Front ক্যানিং পূর্বে সদ্য দলবদল করা আরাবুল ইসলামকে প্রার্থী ঘোষণা করে। একসময়কার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে সমর্থন করতে নারাজ ছিল সিপিএমের জেলা নেতৃত্বও। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় দলীয় স্তর থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল— প্রার্থী বদল না হলে বয়কটের পথেও হাঁটতে পারে তারা।
এই পরিস্থিতিতে সেলিম আরও বলেন, “কোনও দুর্নীতিগ্রস্ত বা দুর্বৃত্তদের সঙ্গে সিপিএমের কোনও সম্পর্ক থাকতে পারে না। দলে যদি পচন থাকে, তা সরিয়ে ফেলতেই হয়।” তাঁর এই মন্তব্যে জোটের অন্দরে অস্বস্তি আরও বেড়েছে।
সিপিএমের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে— আইএসএফ যদি প্রার্থী না বদলায়, তবে ক্যানিং পূর্বে তারা নিজেদের প্রার্থী দেবে এবং সরাসরি লড়াইয়ে নামবে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, ২০২১-এর মতো ২০২৬-এর নির্বাচনেও এই জোট আদৌ টিকবে কি না।
এদিকে, চতুর্থ দফায় নিজেদের প্রার্থী তালিকাও ঘোষণা করেছে সিপিএম। ঘোষিত প্রার্থীরা হলেন—
- জঙ্গিপুর: অলোককুমার দাস
- রঘুনাথগঞ্জ: আবুল হাসনাত
- নাকাশিপাড়া: শুক্লা সাহা
- রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম: দেবাশিস চক্রবর্তী
- রানাঘাট উত্তর-পূর্ব: মৃণাল বিশ্বাস
- এগরা: সুব্রত পান্ডা
- ময়ূরেশ্বর: জয়ন্ত ভাল্লা
সব মিলিয়ে, প্রার্থী ইস্যুতে তৈরি এই দ্বন্দ্ব আগামী দিনে জোট রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।



