নজরবন্দি ব্যুরো: তদন্তে ঢিলেমি কেন? নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত কুন্তল ঘোষের চিঠি মামলার ফের আদালতে বিচারকের ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা CBI কে। শুধু কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাই নয়, পাশাপাশি কলকাতা পুলিশকেও পড়তে হয়েছে ভর্ৎসনার মুখে। একইসঙ্গে কুন্তল ঘোষের এই মামলায় তৎপরতা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন আলিপুর বিশেষ আদালতের বিচারক অর্পণ চট্টোপাধ্যায়।


প্রসঙ্গত, জেল থেকেই অভিযোগ জানিয়ে আদালতে চিঠি দিয়েছিলেন তৃণমূলের বহিষ্কৃত নেতা কুন্তল ঘোষ! আর সেই চিঠি সংক্রান্ত বিষয়ের জল গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত! যার জেরে সিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছিল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কিন্তু সেই চিঠি নিয়ে এখনও জল্পনা শেষ হয়নি! বেশ কয়েকদিন আগেই কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ ও সিবিআইকে যৌথ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল আলিপুর আদালত।

আদালতের নির্দেশ ছিল যে, কুন্তল ঘোষ ও তাঁর স্ত্রী-র বয়ান রেকর্ড করার পাশাপাশি সিবিআই ও ইডি আধিকারিকদেরও বয়ান রেকর্ড করতে হবে। আর সেই সমস্ত বয়ান রেকর্ডে ২১ তারিখের মধ্যে থার্ড জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে পেশ করতে হবে। কিন্তু এরপরের যুগ্ম কমিশনারের দাবি, তিনি সিবিআই-এর তরফ থেকে পূর্ণাঙ্গ সাহায্য পাচ্ছে না। তারপরেই আদালতের পক্ষ থেকে সিবিআই এবং কলকাতা পুলিশ দুপক্ষই কড়া ভাবে নির্দেশ দেওয়া হয় যে, অভিযুক্ত এবং অভিযোগকারীদের বয়ান রেকর্ড করে রিপোর্ট পেশ করার জন্য। কিন্তু এবার সেই কাজেও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ঢিলেমি দিচ্ছে বলেই অভিযোগ উঠেছে। আর তার জেরেই ফের একবার বিচারকের ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা CBI কে।



উল্লেখ্য, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম বলতে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেই অভিযোগ করেছিলেন কুন্তল ঘোষ। এরপরেই শুরু হয়, রাজনৈতিক শোরগোল! তারপরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করা নিয়ে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় নির্দেশ দেন। এখানেই শেষ নয়, যার জেরে ওই মামলা থেকে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয় বিচারপতি অমৃতা সিনহাকে। এরপরে অভিষেকের মামলায় রায়দান করেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। আদালত জানায় যে, কুন্তল ঘোষের চিঠিকাণ্ডে ইডি সিবিআই চাইলে অভিষেককে জেরা করতে পারবে। শুধু তাই নয়, আদালতের সময় নষ্ট করার জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কুন্তল ঘোষকে অবিলম্বে ২৫ লক্ষ টাকা করে অর্থাৎ মোট ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছেন বিচারপতি। তারপরেই সিবিআইয়ের তলবে তৃণমূলের নবজোয়ার কর্মসূচী স্থগিত রেখেই পৌঁছে গিয়েছিলেন নিজাম প্যালেসে।
Kuntal Ghosh-র চিঠি মামলায় ফের ভর্ৎসনার মুখে CBI, কি বললেন বিচারক









