নজরবন্দি ব্যুরোঃ করোনা সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ডেঙ্গি বৃদ্ধির সম্পর্ক, প্রায় তিনবছর হয়ে গেলো অতিমারি করোনার আবির্ভাব হয়েছে তাও বিপদ এখনও পুরোপুরি কাটেনি। তার মধ্যেই রাজ্যজুড়ে নেমেছে ডেঙ্গির কালো মেঘের ঢল। স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান বলছে, করোনায় দৈনিক সংক্রমণের হার তলানিতে ঠেকেছে। কিন্তু মশাবাহিত রোগের ক্ষেত্রে পজ়িটিভিটির হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য ভবনও। রাজ্যে গত এক সপ্তাহে সব চেয়ে বেশি সংখ্যক ডেঙ্গি-আক্রান্ত উত্তর ২৪ পরগনা জেলায়।
আরও পড়ুনঃ মানসিক অসুস্থতা কলঙ্ক নাকি একটি অসুক? এই লক্ষণগুলি দেখলেই সাবধান হন তৎক্ষণাৎ
রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৯২। এর মধ্যে বিধাননগর পুর এলাকাতেই আক্রান্ত সর্বাধিক- ৩০৬ জন। স্বাস্থ্য ভবন সূত্রের খবর, পুর এলাকা হিসেবে বিধাননগরই ডেঙ্গির পজি়টিভিটি রেটের নিরিখে এখন রাজ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ জায়গায়। এই পরিস্থিতিতে ডেঙ্গি মোকাবিলায় বিধাননগর পুরনিগমকে একগুচ্ছ নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ভবন।

প্রতি বছরই বর্ষাকালে ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়ে। প্রশ্ন হল, তা হলে গত দু’বছর সে ভাবে ডেঙ্গিরপ্রকোপ দেখা যায়নি কেন? চিকিৎসক মহলে এ বিষয়ে দ্বিমত রয়েছে। একাংশের মতে, করোনায় আক্রান্তদের শরীরে যে প্রাকৃতিক অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছিল, তা ডেঙ্গিকেও প্রতিহত করেছে। এ বার করোনার সংক্রমণ কমতেই মাথাচাড়া দিচ্ছে ডেঙ্গি। অন্য মতটি হল, বিষয়টি আদৌ তা নয়। করোনার সময়ে জ্বর হলেই কোভিড পরীক্ষায় বেশি জোর দেওয়া হচ্ছিল। তাই জ্বরের রোগীদের সিংহভাগই ডেঙ্গি পরীক্ষা করাননি। এখন আবার মশাবাহিত রোগের প্রকোপ হু হু করে বাড়তে থাকায় ঘটছে ঠিক উল্টো।

এদিকে ডেঙ্গির পজি়টিভিটি রেটের নিরিখে এখন রাজ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ জায়গায় রয়েছে বিধাননগর। ফাঁকা জমি ও দীর্ঘদিনের বন্ধ বাড়িতে নজরদারি বাড়ানো এবং বিধাননগর পুরনিগমের তিনটি হাসপাতালে বেডের সংখ্যা বাড়াতে বলা হয়েছে। ড্রোন উড়িয়ে খালগুলিতে জীবাণুনাশক স্প্রে করার কথাও ফের একবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন স্বাস্থ্য ভবনের কর্তারা। নজর দিতে বলা হয়েছে পুজো প্যান্ডেলগুলির উপরেও।
শহরের এক চিকিৎসকের বক্তব্য, ‘ডেঙ্গি ও কোভিড, দুটোই হয়েছে, এমন রোগীও কয়েক জনকে পেয়েছি। বিষয়টি কিন্তু একেবারেই অস্বাভাবিক নয়।’ কোভিডের অ্যান্টিবডি ডেঙ্গিকে প্রতিহত করতে পারছে, এমন দাবি করে গত বছর কয়েকটি গবেষণাপত্রও প্রকাশিত হয়েছে। ইমিউনোলজিস্ট দীপ্যমান গঙ্গোপাধ্যায়ের কথায়, ‘এগুলি সবই গবেষকদের পর্যবেক্ষণ। তবে ওই পর্যবেক্ষণগুলি ছিল ডেঙ্গির সেরোটাইপ ডেং-১ ও ২-র ক্ষেত্রে। কিন্তু এখন রাজ্যে ডেং-৩-র প্রকোপ বেশি।’
করোনা সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ডেঙ্গি বৃদ্ধির সম্পর্ক, ১ নম্বরে বিধাননগর

কোনও একটি ভাইরাসের প্রকোপে যখন অতিমারি পরিস্থিতি চলে, তখন অন্য ভাইরাস চাপা থাকে বলেই পর্যবেক্ষণ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের। এই বিষয়কচিকিৎসক অনির্বাণ দলুইয়ের বক্তব্য, ‘সাধারণ ভাবে কোনও সংক্রমণের ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা ও রোগের গুরুতর আকার ধারণ করার আশঙ্কা যখন বৃদ্ধি পায়, তখন সেই রোগের পরীক্ষা করানোর প্রবণতাও বেড়ে যায়। সাধারণ মানুষ থেকে চিকিৎসকেরা কোভিডের চেয়ে ডেঙ্গির পরীক্ষাই বেশি করাচ্ছেন। তাই আক্রান্তের সংখ্যাও বেশি মিলছে। কোভিডের থেকেও এখন চিকিৎসকেরা ডেঙ্গি নিয়ে বেশি চিন্তিত, কারণ তা রোগীদের অনেককেই সঙ্কটজনক করে তুলছে।’



