মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম কোচবিহার সফরেই উন্নয়ন ও পর্যটনকে ঘিরে একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা জানালেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার ঐতিহাসিক মদনমোহন মন্দিরে (Madan Mohan Temple) পুজো দিয়ে তিনি জানান, আগামী এক বছরের মধ্যে কোচবিহারবাসীর বহুদিনের প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে কাজ এগোচ্ছে। মন্দিরের উন্নয়ন, বিমান যোগাযোগ, রেল ও সড়ক পরিকাঠামোর পাশাপাশি ধর্মীয় পর্যটনেও জোর দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মদনমোহন মন্দিরে পুজো দেওয়ার পর মন্দিরের উন্নয়ন নিয়ে জেলা প্রশাসনের পরিকল্পনার কথা জানান শুভেন্দু। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যেই প্রায় ২ কোটি টাকার ডিপিআর তৈরি করা হয়েছে। তবে সেই অর্থ যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন তিনি। আরও বড় পরিসরে পরিকল্পনা তৈরি করে মন্দিরের উন্নয়নকাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
কোচবিহার বিমানবন্দর নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন তিনি। শুভেন্দুর বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী রামমোহন নাইডুর সঙ্গে তাঁর বৈঠক রয়েছে। সেই আলোচনায় কোচবিহার বিমানবন্দরের বিষয়টি তোলা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। সরকারি জেলা ওয়েবসাইটেও বিমানবন্দরটির পরিষেবা চালুর প্রক্রিয়া চলার কথা উল্লেখ রয়েছে।
২০২৭ সালের মে মাসের মধ্যে কোচবিহারের উন্নয়নে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার লক্ষ্যও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, পরিকল্পনা ও বরাদ্দের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের প্রথম দিকের টেন্ডারগুলিতেও কোচবিহার জেলার জন্য উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কাজ রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
শুধু পরিকাঠামো নয়, একাধিক সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়নেও জোর দেওয়ার কথা জানিয়েছেন শুভেন্দু। জল জীবন মিশন, প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর, অন্নপূর্ণা যোজনা, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা এবং পিএম-কিষাণ সম্মান নিধির মতো প্রকল্পের কাজ একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন তিনি। কৃষকদের জন্য কৃষক বন্ধু প্রকল্পের ভেরিফিকেশনের বিষয়টিও তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে।
কোচবিহারের পর্যটন সম্ভাবনা নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে উত্তরবঙ্গের প্রকৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্য। বিশ্ব গণ্ডার দিবসের প্রসঙ্গ তুলে তিনি তরাই-ডুয়ার্সের একশৃঙ্গ গণ্ডার ও বন্যপ্রাণভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনার কথা বলেন। তাঁর মতে, কোচবিহারে প্রকৃতি দেখতে আসা পর্যটকের পাশাপাশি ধর্মীয় পর্যটনেরও বড় সম্ভাবনা রয়েছে।
এই পর্যটন পরিকল্পনায় মদনমোহন মন্দিরকে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরেছেন শুভেন্দু। রেল, বিমান ও বাস যোগাযোগ আরও উন্নত করার পাশাপাশি পর্যটকদের থাকার জন্য গেস্ট হাউস ও আবাসনের পরিকাঠামো তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। কোচবিহারকে তরাই-ডুয়ার্স বা টাইগার হিলের মতো পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
কোচবিহারের মদনমোহন মন্দির শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এবং ১৮৮৫ থেকে ১৮৮৯ সালের মধ্যে মহারাজা নৃপেন্দ্র নারায়ণের আমলে নির্মিত। মন্দিরকে কেন্দ্র করে রাসযাত্রা ও রাসমেলার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। ফলে ধর্মীয় পর্যটনের সঙ্গে স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে যুক্ত করার সুযোগও রয়েছে বলে মনে করছে প্রশাসন।
উল্লেখ্য, এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতেও শুভেন্দু অধিকারী কোচবিহারের মদনমোহন মন্দির থেকে কালীঘাট, দক্ষিণেশ্বর, মায়াপুর, ঠাকুরনগর, তারাপীঠ হয়ে তারকেশ্বর পর্যন্ত ধর্মীয় পর্যটন সার্কিট গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। ফলে কোচবিহারকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় পর্যটনের পরিকাঠামো বাড়ানোর পরিকল্পনাটি বৃহত্তর পর্যটন ভাবনার অংশ হিসেবেই সামনে আসছে।
সব মিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কোচবিহার সফরে মন্দির উন্নয়ন থেকে বিমান যোগাযোগ, সরকারি প্রকল্প থেকে পর্যটন পরিকাঠামো—একাধিক ক্ষেত্র উঠে এসেছে। ২০২৭ সালের মে মাসের মধ্যে উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার যে সময়সীমার কথা শুভেন্দু জানিয়েছেন, এখন নজর থাকবে সেই ঘোষণাগুলি বাস্তবে কতটা দ্রুত কার্যকর হয় তার দিকে।



