সাম্প্রতিককালে একাধিক মামলায় বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের বিষয় নিয়ে আইনি প্রশ্ন উঠেছে। কলকাতা হাই কোর্টের একটি মামলায় অভিযোগকারিণী দাবি করেছিলেন, এক ব্যক্তির সাথে বিয়ের প্রতিশ্রুতি পেয়ে তিনি শারীরিক সম্পর্কে সম্মতি দেন এবং সেই সম্পর্কের ফলে অন্তঃসত্ত্বা হন। তবে, মামলার শুনানিতে বিচারপতি অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর্যবেক্ষণ এসেছে ভিন্নতর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। তিনি বলেন, একজন সাবালিকা নারী হিসেবে অভিযোগকারিণী নিজে সহবাসে সম্মত হন এবং সম্পর্কের পরিণতি সম্পর্কে সচেতন ছিলেন।
বিয়ের প্রতিশ্রুতি ও স্বেচ্ছায় যৌন সম্পর্কের ভিত্তিতে ধর্ষণের অভিযোগে আগের রায়গুলির প্রসঙ্গ তুলে সুপ্রিম কোর্টের রায়ও তুলে ধরেন বিচারপতি। প্রেমের আবেগে যৌন সম্পর্কে জড়ানো এবং প্রতারণার মাধ্যমে সম্পর্কের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করেন তিনি। প্রেমিক যদি সজ্ঞানে প্রতারণা না করে এবং প্রেমের আবেগে সম্পর্ক গড়ে উঠে তবে তাকে ধর্ষণ হিসেবে গণ্য করা যায় না।
এই মামলায় বাঁকুড়ার আদালত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সাত বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছিল। তবে, হাই কোর্টে রায় পুনর্বিবেচনার পর নিম্ন আদালতের রায় খারিজ করা হয়েছে। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযোগকারিণীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তির সম্পর্কের কোনো প্রমাণ পুলিশ দিতে পারেনি।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের উদাহরণে বলা হয়েছে, ধর্ষণ ও সম্মতিমূলক যৌনতায় পরিষ্কার পার্থক্য রয়েছে। যৌন সম্পর্কের জন্য শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতিই কারণ হলে তাকে ধর্ষণ বলা যাবে না। একজন সাবালিকা নারী সম্পর্কের পরিণতি সম্পর্কে অবগত থেকে সম্মত হলে আইনত ধর্ষণ মামলা চলা উচিত নয়।



