সিংহভাগ আসনে লড়তে চায় কংগ্রেস, আসন সমঝোতা নিয়ে জোটে অব্যাহত জট।

সিংহভাগ আসনে লড়তে চায় কংগ্রেস, আসন সমঝোতা নিয়ে জোটে অব্যাহত জট।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ সিংহভাগ আসনে লড়তে চায় কংগ্রেস, আসন সমঝোতা নিয়ে জোটে অব্যাহত জট। মাত্র ৫ বছর আগের ঘটনা। ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন। বাংলার মানুষ কে অবাক করে নীতিগত ভাবে সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর দুই দল সিপিএম এবং কংগ্রেস। ধর্মতলার শহীদ মিনার ময়দানে এক মঞ্চে হাতে হাত রাখেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং রাহুল গান্ধী। আগামি ভোটে জোট জিতবে এবং মুখ্যমন্ত্রী হবেন সূর্যকান্ত মিশ্র বলে দাবি করেন জোট। একদা চরম শত্রু দুই দল হাতে হাত রেখে লড়াই করলেও সরাতে পারেনি মমতা সরকারকে।

আরও পড়ুনঃ মুস্তাক আলি ট্রফিতে কাল মরণ বাঁচন ম্যাচে তামিলনাড়ুর বিরুদ্ধে নামছে বাংলা।

জোটও ধাক্কা খেয়ে ভেঙে যায়। ৫ বছর বাদে ফের বিধানসভা ভোট আসন্ন। ফের জোট বেঁধেছে বাম কংগ্রেস। সেই ভোটের আসন সমঝোতা নিয়ে এর আগে বেশ কয়েক দফা বৈঠকের পর আজ ফের আলচনায় বসে দুই দল। তবে সেই সমঝোতা নিয়েই সৃষ্টি হয়েছে জট। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী এবার সিংহভাগ আসনে কংগ্রেস প্রার্থী দাঁর করাতে চান। অন্যদিকে বামেরা এত আসন ছারতে নারাজ। এবার দেখা নেওয়া যাক কংগ্রেস মূলত কোন কোন আসনের দাবি করছে। প্রদেশ কংগ্রেস সূত্র মারফত যে খবর পাওয়া গিয়েছে, তাতে জানা যাচ্ছে মুর্শিদাবাদ, মালদা এবং উত্তর দিনাজপুরের কার্যত সমস্ত আসন দাবি করে বসেছে কংগ্রেস।

তবে মুর্শিদাবাদের ডোমকল, সাগরদিঘি, জঙ্গিপুর, নবগ্রাম আসনগুলি নিমরাজি হয়ে বামেদের সেটা কংগ্রেস ছেড়ে দিতে পারে।একইভাবে উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়া, হেমতাবাদ এবং করণদিঘি বামেদের ছাড়ার কথা ভাবতে পারে কংগ্রেস। আর মালদার ক্ষেত্রে কেবলমাত্র গাজোল এবং বৈষ্ণবনগর আসন দুটি বামেদের কংগ্রেস ছাড়তে রাজি আছে বলে বিশেষ সূত্রে খবর। তিনটি জেলা মিলিয়ে মোট আসনের সংখ্যা ৪৩। সেখানে দরকষাকষিতে কংগ্রেস মাত্র ৯টি বামেদের ছাড়তে রাজি বলে জানা গিয়েছে। এ প্রসঙ্গে কংগ্রেসের যুক্তি, ২০১৬ সালে কংগ্রেস বামেদের চেয়ে অনেক কম আসনে লড়ে ৪৪টি আসনে জিতেছিল।

সেক্ষেত্রে তাদের স্ট্রাইক রেট অনেক ভাল ছিল বামেদের থেকে। এটাই বামেদের বলছেন আসন রফা নিয়ে কংগ্রেসের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। যদিও বাম শিবির সেই দাবি মানতে নারাজ। তাই কংগ্রেস মনে করছে তারা যদি তিনটি জেলার সিংহভাগ আসনে লড়াই করে, তবে অনেক বেশি জয়ের সম্ভাবনা থাকবে তাদের। এ প্রসঙ্গে মুর্শিদাবাদ জেলার এক কংগ্রেস নেতার বক্তব্য, আমরা এই জেলায় দীর্ঘদিন ধরে বামেদের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে সামিল হয়েছি। তাই জোট হলে কংগ্রেস ভোটাররা দলে দলে গিয়ে সিপিএমকে ভোট দিয়ে দেবে, এটা ভাবলে ভুল করবে ওরা।

কিন্তু সিপিএম সমর্থকদের ক্ষেত্রে এই সমস্যাটা হবে না। কারণ কংগ্রেসের হাতে ওরা অত্যাচারিত হয়নি। তাই আমরা চাই এই তিনটি জেলায় প্রায় সব আসনে কংগ্রেসের প্রার্থী থাকুক। এ তো গেল তিনটি জেলার কথা। এর পাশাপাশি কংগ্রেস মূলত দাবি করছে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বিধানসভা কেন্দ্রগুলি। কোন কোন আসনের দাবি জানাচ্ছে কংগ্রেস একটু দেখে নেওয়া যাক।

বীরভূমের হাঁসন, মুরারই, সিউড়ি, নলহাটি। পূর্ব এবং পশ্চিম বর্ধমান মিলিয়ে কালনা, কাটোয়া, দুর্গাপুর পশ্চিম, পূর্বস্থলী দক্ষিণ, কেতুগ্রাম, রায়না, পাণ্ডবেশ্বর, আসানসোল কেন্দ্রগুলি। নদিয়া জেলার শান্তিপুর, রানাঘাট পূর্ব, রানাঘাট দক্ষিণ, নাকাশিপাড়া আসনের দাবি জানাচ্ছে কংগ্রেস। এর পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে কংগ্রেস লড়াই করতে চাইছে। এগুলি হল মাটিগাড়া- নকশালবাড়ি, সিতাই, দিনহাটা, কুমারগ্রাম, ফাঁসিদেওয়া, গঙ্গারামপুর, হরিরামপুর।

এছাড়া কলকাতা বন্দর, চৌরঙ্গী এবং এন্টালি আসনের দাবি থেকে কংগ্রেস কোনোভাবেই সরে আসবে না বলে খবর। উত্তর এবং দক্ষিণ 24 পরগনার যেসব আসনে কংগ্রেস লড়ছে চাইছে বলে খবর সেগুলি হল বাদুড়িয়া, বসিরহাট, মধ্যমগ্রাম, রাজারহাট গোপালপুর, কামারহাটি, নোয়াপাড়া, ভাঙড়, ডায়মন্ড হারবার, কুলপি, বজবজ, ক্যানিং পূর্ব, কাগদ্বীপ, পাথরপ্রতিমা প্রভৃতি। এর পাশাপাশি হাওড়া এবং হুগলি মিলিয়ে কংগ্রেসের নজরে রয়েছে আমতা, শ্যামপুর, পাঁচলা, বলাগড়, চাঁপদানি, শিবপুর, মধ্য হাওড়া, ডোমজুড়, শ্রীরামপুর প্রভৃতি কেন্দ্র।

বাঁকুড়ার কোতুলপুর, বিষ্ণুপুর, ওন্দা আসনে লড়তে চায় কংগ্রেস। এমনটাই খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে সবচেয়ে বেশি সমস্যা তৈরি হয়েছে পুরুলিয়া জেলায়। এই জেলার বেশিরভাগ আসনেই কংগ্রেস লড়তে চাইছে বলে খবর। এখানে বলে রাখা ভালো, যে যে আসনের কথা বলা হয়েছে, তার অনেককটিতে গতবার কংগ্রেস জিতেছিল। সেগুলির পাশাপাশি আরো অনেক আসনের দাবি এবার করছে কংগ্রেস। সব মিলিয়ে কংগ্রেস কোনও মতেই ১১৫টি আসনের নিচে রাজি হবে না বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। আর সেই কারণেই জটিলতা কাটছে না। কারণ সিপিএমের শরিক দলের দাবি মানতে গেলে কংগ্রেসকে এত আসন ছাড়া যাবে না।

সিংহভাগ আসনে লড়তে চায় কংগ্রেস, আসন সমঝোতা নিয়ে জোটে অব্যাহত জট। তাই বাম এবং কংগ্রেসের আসন রফা কোন দিকে মোড় নেয় এখন সেটাই দেখার।ইতিমধ্যেই কংগ্রেসের দাবি ঘিরে জটিলতা তৈরি হয়েছে। মূলত ফরওয়ার্ড ব্লক এবং আরএসপি কংগ্রেসের দাবি মানতে নারাজ। যদিও দুই দলের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রকাশ্যে সমস্যার কথা বলছেন না। তাঁদের কথায়, আমাদের আলোচনা মসৃণ গতিতে চলছে। শীঘ্রই ঠিক হয়ে যাবে কে কোন আসনে লড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x