নজরবন্দি ব্যুরোঃ লোকসভার লক্ষ্যে মমতার বিরুদ্ধে প্রার্থী দিচ্ছেনা কংগ্রেস। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে মমতার নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে তৃণমূলের হয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বিপুল ভোটে জয়ও পান তিনি। রাজ্যেও ফের ক্ষমতায় ফিরে আসে তৃণমূল কংগ্রেস। অন্যদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবারে দাঁড়িয়েছিলেন নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে নিজের একদা শিষ্য শুভেন্দুর বিরুদ্ধে। মারকাটারি লড়াইয়ের পর সামান্য ভোটের ব্যবধানে হেরে যান তিনি।
আরও পড়ুনঃ আলাপন-ইস্যুতেই কড়াকড়ি! অবসর প্রাপ্ত আমালাদের পুনর্নিয়োগ নিয়ে একগুচ্ছ নিয়ম আনলো কেন্দ্র


এদিকে সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী ভোটে হেরে মন্ত্রীপদে বসলে ৬ মাসের মধ্যে নির্বাচনে জিততে হয়। সেইমতো ঠিক হয় উপনির্বাচনে মমতা লড়বেন নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরেই। ফলে নিজের জয়লাভ করা বিধায়ক আসন ছাড়তে হয় রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়া শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে। এদিকে নিয়ম অনুযায়ী মন্ত্রীপদে থাকতে গেলে তাঁকেও জিততে হবে নির্বাচনে। অন্যদিকে খরদহ কেন্দ্রে তৃণমূল বিপুল ভোটে জয়লাভ করলেও ফল প্রকাশের আগেই করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন সেখানকার তৃণমূল প্রার্থী কাজল সিনহা। তাই ওই কেন্দ্রে উপনির্বাচন হবে। সেখানেই লড়বেন শোভনদেব।
লোকসভার লক্ষ্যে মমতার বিরুদ্ধে প্রার্থী দিচ্ছেনা কংগ্রেস। জোটস্বার্থে ‘২১ নির্বাচনে কংগ্রেসকে ভবানীপুর আসন ছেড়েছিল সিপিআইএম। এই কেন্দ্রেও জামানত বাজেয়াপ্ত হয় জোট প্রার্থীর। তৃণমূলের শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ৭৩ হাজার ৫০৫ টি ভোট পান, দ্বিতীয় হন বিজেপির রুদ্রনীল ঘোষ। তিনি পান ৪৪ হাজার ৭৮৬ ভোট। সংযুক্ত মোর্চার কংগ্রেস প্রার্থী সহদেব খান পান ৫ হাজার ২১১ ভোট। কংগ্রেস সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপনির্বাচনে প্রার্থী দেবেনা তাঁরা। সূত্রের খবর, মমতার ভোট কাটতে চাইছে না কংগ্রেস। বরং যতটা সম্ভব তাঁর মার্জিন বৃদ্ধি করাই টার্গেট। লক্ষ্য লোকসভা, তাই সম্ভবত বাম আর আইএসএফের সাথে জোট ত্যাগ করছে কংগ্রেস। লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের সাথে একসাথে নির্বাচন লড়বে তারা।
প্রসঙ্গত, গতকালই অধীর হটাও ডাক উঠেছে কংগ্রেসের অন্দরে। কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনেই অধীর কে তুলোধনা করেন প্রদেশ নেতারা। মূল কারন ছিল তৃণমূলের সাথে জোট না করে আইএসএফ এবং বামেদের সাথে জোট করা। কদিন আগেই কেন্দ্রীয় কংগ্রেস নেতা বিরাপ্পা মইলি বলেছিলেন, ”মমতা তো আমাদেরই লোক। তৃণমূল তৈরির আগে কংগ্রেসেই ছিলেন। বাংলায় যেহেতু মমতাই বিজেপির (BJP) বিরুদ্ধে লড়ছিলেন, তাই আমাদের উচিত ছিল তৃণমূলের সঙ্গেই জোট করা। বাম এবং আইএসএফের সঙ্গে জোট করার থেকে তৃণমূলের সঙ্গী হলে দলের জন্য ভাল হত।”


এদিকে কংগ্রেস না লড়লে এই আসনে সিপিআইএম একক ভাবে প্রার্থী দেবে বলে জানা গিয়েছে। মমতার বিরুদ্ধে মীনাক্ষী মুখার্জী লড়তে পারেন এই আসনে। হাইপ্রোফাইল নন্দীগ্রামে প্রার্থী করা হয়েছিল তাঁকে। বাজেয়াপ্ত হয় জামানত। কিন্তু সেই লড়াইয়ে প্রচারের লাইমলাইটে চলে আসেন বাম যুব নেত্রী। সূত্রের খবর আলিমুদ্দিনের অন্দরমহলে দাবি উঠেছে মমতার বিরুদ্ধে মীনাক্ষীকে প্রার্থী করা নিয়ে। অধিকাংশের দাবি প্রার্থী হোন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। সূত্রের দাবি মীনাক্ষীর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত।







