কোভিড পজিটিভ রোগীর জটিল অস্ত্রোপচার সফল হল কলকাতায়।

কোভিড পজিটিভ রোগীর জটিল অস্ত্রোপচার সফল হল কলকাতায়।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ কোভিড পজিটিভ রোগীর জটিল অস্ত্রোপচার সফল হল কলকাতায়। পিপিই পরে কোভিড পজিটিভ রোগীর জটিল অস্ত্রোপচার করলেন কলকাতার চিকিৎসকরা। টানা ২ ঘণ্টার পর মাথা থেকে বের করা হল এক মিলিলিটার রক্ত। কোভিড পজিটিভ হওয়া সত্ত্বেও রোগীর জটিল অস্ত্রোপচার করে সফল হলেন মল্লিকবাজারের ইন্সটিটিউট অফ নিউরো সায়েন্সের চিকিৎসকেরা। হাসি ফুটল রোগী ও তাঁর পরিবারের মুখে।

আরও পড়ুনঃ বিশ্বের অতিমারি পরিস্থিতির মধ্যে ৪ হাজারের বেশি জঙ্গিকে তালিকা থেকে বাদ পাকিস্তানের, কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের।

নিউরো সার্জন চিকিৎসক সুকল্যাণ পুরকায়স্থর কথায়, “রোগী করোনা পজিটিভ। কিন্তু নেগেটিভ হওয়া পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করতে পারতাম না। এই আবহেই জটিল অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।” গত সেপ্টেম্বর মাসে বর্ধমানের বাসিন্দা সাদিক শেখের এক রাতে আচমকাই ঘুম ভেঙে যায়। এরপরই বছর পঞ্চান্নর সাদিক ভুল বকতে শুরু করেন। খবর দেওয়া হয় গ্রামের হাতুড়ে ডাক্তারকে। তিনি এসে ভাবেন ভুতে ধরেছে। তবে এসব কুসংস্কারে কান দেননি সাদিকের ছেলে।

তড়িঘড়ি বাবাকে নিয়ে দৌড়ন বর্ধমানের একটি নার্সিংহোমে। সেখানেই তাঁর সিটি স্ক্যান করানো হয় । আর তাতেই ধরা পড়ে সাদিকের মাথার ভিতর ধমনির দেওয়াল ফেটে গিয়েছে। চিকিৎসা পরিভাষায় যাকে বলা হয় অ্যানুরিজম। অ্যানুরিজমের কারণে সাবার্কানয়েড ব্লিড বা মাথার ভিতরে রক্তপাত হয়। এই ধরণের রোগীর মধ্যে তিনভাগের একভাগকে বাঁচানো সম্ভব হয়। প্রয়োজন হয় দ্রুত অস্ত্রোপচারের। জেলার নার্সিংহোমে অত্যাধুনিক চিকিৎসার পরিকাঠামো নেই।

তাই রোগীকে দ্রুত কলকাতায় রেফার করা হয়। কলকাতার বাঙ্গুর ইন্সটিটিউট অফ নিউরো সায়েন্সে বেড না পেয়ে, মল্লিকবাজারের ইন্সটিটিউট অফ নিউরো সায়েন্সে ভর্তি হন সাদিক। এদিকে করোনা আবহে অস্ত্রোপচারের আগে রোগীর কোভিড টেস্ট করে নেওয়া বাধ্যতামূলক। সেই টেস্ট করাতে গিয়েই মাথায় হাত পড়ে ডাক্তারের । সাদিক করোনা পজিটিভ। আরও নিশ্চিত হতে রোগীর বুকের সিটি স্ক্যান করা হয়। সেখানেও দেখা যায় রোগীর ফুসফুসে সংক্রমণ রয়েছে।

কোভিড পজিটিভ রোগীর জটিল অস্ত্রোপচার সফল হল কলকাতায়। জটিল এই অস্ত্রোপচারে করোনা রোগীর ঝুঁকি অনেক। কিন্তু সময় কম থাকায় এর মধ্যেই অস্ত্রোপ্রচারের সিধান্ত নেন চিকিৎসক। এর মধ্যেই ডিজিটাল সাবট্রাকশন অ্যাঞ্জিওগ্রাফিতে ধরা পড়ে রোগীর মাথার ভিতরের আরও একটি ধমনির দেওয়াল দুর্বল হয়ে পড়েছে। পিপিই পরেই এন্ডোভাসকুলার সার্জারির প্রস্তুতি শুরু করে দেন চিকিৎসকরা। টানা ২ ঘণ্টার জটিল অস্ত্রোপচারে অবশেষে মাথার ভেতর থেকে বের করা হয়েছে রক্ত। মেরামত করা হয়েছে ধমনির দেওয়াল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x