নজরবন্দি ব্যুরোঃ উত্তরবঙ্গে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছে গতকাল। ময়নাগুড়ি-দোমহনির মাঝে লাইনচ্যুত হয় বিকানের-গুয়াহাটি এক্সপ্রেস (Bikaner-Guwahati Express)। ২ টি বগি লাইনচ্যুত, ৬ টি বগি চূড়ান্ত ক্ষতিগ্রস্ত। বহু হতাহতের আশঙ্কা। গতকাল বিকেল ৫টা নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। এখনও পর্যন্ত ৯ জন যাত্রীর মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। আশঙ্কাজনক ১০ জন।
আরও পড়ুনঃ ২৪ ঘন্টায় ১৪ হাজার আক্রান্তের সাথে ১৭ টি মৃত্যু, করোনায় কাঁপছে বাংলা!


রেল মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব গতকালই ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরন দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। পাশাপশি আহতদের ১ লাখ টাকা। যারা অল্প বিস্তর চোট পেয়েছেন তাঁদের ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়। গতকাল ক্ষতিপূরণের ঘোষনা করে আজই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন রেল মন্ত্রী। দেখা করেছেন আহতদের সাথে।
এদিকে রেলমন্ত্রীর ঘোষনা অনুযায়ী মৃতদের আর্থিক ক্ষতিপূরন দেওয়ার কাজ শুরু করেছে ভারতীয় রেল। ইতিমধ্যেই ৯ নিহত ট্রেন যাত্রীর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ৫ লক্ষ টাকার চেক। আহত ৩৪ জন ক্ষতিপূরন পেলেও পরিবারের লোকেরা না থাকায় ২ জনকে ক্ষতিপূরন দেওয়া সম্ভব হয়নি। তাদের ঠিকানা সংগ্রহ করে ডাকপিয়নের মাধ্যমে তাদের ঠিকানায় চেক পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে ভারতীয় রেল। শুক্রবার ময়নাগুড়িতে এসে একথা জানিয়েছেন রেল মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।

দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে ৫ লাখ ক্ষতিপূরন দিল রেল, আহত ৩৪ জনকে ১ লাখের চেক।



অন্যদিকে সামনে এসেছে প্রত্যক্ষদর্শীদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা। যখন দুর্ঘটনা ঘটে তখন রেললাইনের কাছেই একটি চায়ের দোকানে বন্ধুদের সঙ্গে বসে আড্ডা মারছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা মনোহর পাল। ট্রেন বেলাইন হওয়ার তীব্র শব্দ শুনতে পেয়ে সবার প্রথম সেখানে ছুটে যান তিনি। তাঁর কথায়, “প্রথমে ভেবেছিলাম মনে হয় কোনও বিস্ফোরণ হয়েছে। তার পর ছুটে এসে দেখি ট্রেনের কামরাগুলি খেলনার মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে। তার মধ্যে থেকে মানুষের আর্তনাদ শুনতে পাই। তখনই তাঁদের বের করতে শুরু করি।”







