কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬ (Commonwealth Games 2026)-এ ভারতের প্যারা অ্যাথলেটিক্সে তৈরি হল নতুন ইতিহাস। শনিবার পুরুষদের শটপুট F57 বিভাগের ফাইনালে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে সোনা জিতলেন সোমান রানা (Soman Rana) এবং রুপোর পদক জিতলেন শুভম জুয়াল (Shubham Juyal)। শুধু পদক জেতাই নয়, এই প্রথম এই ইভেন্টে ভারত একসঙ্গে সোনা ও রুপো জিতে ‘ওয়ান-টু ফিনিশ’ করে নজির গড়ল। একই সঙ্গে পুরুষদের শটপুট F57 বিভাগে ভারতের এটিই প্রথম সোনার পদক। ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে এ বারের আসরে এটি ভারতের তৃতীয় সোনাও।
ফাইনালে মোট ১০ জন প্রতিযোগী অংশ নেন এবং প্রত্যেকেই ছয়টি করে থ্রো করার সুযোগ পান। ভারতের হয়ে প্রথমে প্রতিযোগিতায় নামেন শুভম জুয়াল। শুরুতেই ১৩.০৮ মিটার থ্রো করে তিনি লিড নেন। এরপর শেষ প্রচেষ্টায় নিজের পারফরম্যান্স আরও উন্নত করে ১৩.২৮ মিটার ছুড়ে রুপোর দৌড়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। দীর্ঘ সময় পর্যন্ত তাঁর সেই থ্রোই ছিল সবার নাগালের বাইরে।
তবে শেষ পর্যন্ত সতীর্থ সোমান রানা আরও বড় সাফল্য এনে দেন। দ্বিতীয় প্রচেষ্টাতেই ১৩.৪০ মিটার থ্রো করে তিনি শীর্ষস্থান দখল করেন। এরপর আর কোনও প্রতিযোগী সেই দূরত্ব অতিক্রম করতে পারেননি। ফলে সোনার পদক নিশ্চিত করেন সোমান, আর শুভম শেষ করেন রুপো জিতে। এই ঐতিহাসিক ফলেই কমনওয়েলথ গেমসের শটপুট F57 বিভাগে ভারতের প্রথম ওয়ান-টু ফিনিশের রেকর্ড গড়ে যায়।
সোমান রানার এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প। একসময় তিনি জাতীয় স্তরের মিডলওয়েট বক্সার ছিলেন। কিন্তু ২০০৬ সালে পুঞ্চ সেক্টরে (Poonch Sector) ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে তাঁর ডান পা হারাতে হয়। জীবনের সেই কঠিন অধ্যায়ের পর ২০১৭ সালে নতুন কৃত্রিম পা নেওয়ার সময় আর্মি প্যারালিম্পিক্স নোডের আর্টিফিশিয়াল লিম্ব সেন্টার (Artificial Limb Centre)-এ প্যারা অ্যাথলেটিক্সের সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর। সেখান থেকেই শুরু হয় নতুন লড়াই, যার পরিণতি কমনওয়েলথের সোনার মঞ্চে।


শুভম জুয়ালের জীবনও কম নাটকীয় নয়। মাত্র ২৬ বছর বয়সে আর্মি ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হওয়ার লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সাক্ষাৎকার দিতে যাওয়ার পথে ভয়াবহ মোটরবাইক দুর্ঘটনায় একটি পা হারান। সেই দুর্ঘটনাই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পরে আর্মির প্যারালিম্পিক্স স্পোর্টস নোডে যোগ দিয়ে প্যারা অ্যাথলেটিক্সকে নিজের নতুন লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেন। সেই সিদ্ধান্তই তাঁকে এনে দিল কমনওয়েলথ গেমসের রুপোর পদক।
দুই অ্যাথলিটের এই অসাধারণ সাফল্য শুধু ভারতের পদক তালিকাকেই সমৃদ্ধ করেনি, বরং প্যারা অ্যাথলেটিক্সে দেশের ক্রমবর্ধমান শক্তিরও প্রমাণ দিয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনের প্রতিকূলতাকে জয় করে সোমান রানা ও শুভম জুয়াল যে ইতিহাস গড়লেন, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্রীড়াবিদদের জন্য নিঃসন্দেহে বড় অনুপ্রেরণা।





