নয়াদিল্লি: সোমবার দিল্লির (Delhi) রাজপথ কার্যত রণক্ষেত্র। সংসদ অভিমুখে ককরোচ জনতা পার্টির (Cockroach Janata Party) মিছিল আটকাতে ব্যারিকেড, লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস— সবই করল পুলিশ। ধরপাকড় করা হল ৭০ জনের বেশি বিক্ষোভকারীকে। কিন্তু এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নড্ডা (J.P. Nadda) বৈঠকে বসলেন ‘ককরোচ’ দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে। অন্যদিকে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে (Dharmendra Pradhan) নিয়ে চার ঘণ্টা বৈঠক করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। আর হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk) জানিয়ে দিলেন— দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর অনশন চলবে।
সিজেপি-র দাবি, সোমবারের কর্মসূচিতে প্রায় ২০ হাজার মানুষ শামিল হয়েছিলেন। শ্রমশক্তি ভবনের কাছে পুলিশ লাঠিচার্জ করে ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। বৃষ্টির মধ্যেই বর্ষাতি পরে জাতীয় পতাকা ও সংবিধানের বই হাতে মিছিল চালিয়ে যান বিক্ষোভকারীরা। পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীরা ‘মারমুখী’ হয়ে ওঠেন এবং দু’টি পুলিশি বাস ভাঙচুর করেন। ৫০ জনের বেশি পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন বলে খবর। সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর ও বেআইনি জমায়েত-সহ একাধিক ধারায় এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ।
এই অশান্তির মধ্যেই কেন্দ্রের তরফে যোগাযোগ করা হয় সিজেপি-র সঙ্গে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নড্ডা বৈঠক করেন দলের প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস ও অপর মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কার সঙ্গে। বৈঠকে সিজেপি তিনটি মূল দাবি পেশ করে— সোনম ওয়াংচুককে দ্রুত হাসপাতাল থেকে মুক্তি দিতে হবে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা চাই, এবং নিট (NEET) পরীক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনায় পরিবারপিছু এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। নড্ডা বিক্ষোভকারীদের অবস্থান তুলে নেওয়ার অনুরোধ করলেও সিজেপি জানিয়েছে, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
হাসপাতাল থেকে হাতে লেখা চিঠিতে ওয়াংচুক লিখেছেন, “শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে শামিল যুবসম্প্রদায়ের সঙ্গে যে নৃশংস আচরণ করা হচ্ছে, তা দেখে আমি অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” তিনি জানান, যত দিন না আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংসদ ভবনে সাংসদদের দেখা করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, তত দিন তাঁর অনশন চলবে।
অন্যদিকে, সোমবারই সংসদ ভবনে ধর্মেন্দ্র প্রধানের দফতরে পৌঁছে যান অমিত শাহ। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলে দুই মন্ত্রীর বৈঠক। ঠিক কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি। তবে এই বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। ইতিমধ্যেই যন্তর মন্তরে (Jantar Mantar) বিক্ষোভকারীদের মঞ্চ ভেঙে দিয়েছে পুলিশ। সিজেপি জানিয়েছে, কেরল হাউসের (Kerala House) সামনে নতুন করে অবস্থান শুরু করবে তারা।