কয়লা কাণ্ডে চার্জশিট চলতি মাসেই? বিনয়ের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে উদ্যত সিবিআই।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ কয়লা কাণ্ডে চার্জশিট চলতি মাসেই? নারদা মামলার তদন্তে আচমকা ঝোড়ো ব্যাট চালিয়ে রাজ্যের চার হেভিওয়েট নেতা-মন্ত্রীকে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই(CBI)। হাইকোর্ট ৪ নেতাকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দিলেও সিবিআই চাইছে অন্য রাজ্যে মামলা সরিয়ে নিতে। আজও হাইকোর্টে সেই মামলার শুনানি হয়েছে। দুর্বার গতি নিয়ে আসা হয়েছে মামলার তদন্তে। আর এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর কয়লা পাচার কাণ্ডে একাধিক ব্যবসায়ী ও পুলিশ কর্তাদের জেরার পর এবার চার্জশিট জমা দেওয়ার চূড়ান্ত পথে দ্রুত এগোচ্ছেন তারা।

আরও পড়ুনঃ অ্যালোপ্যাথি নিয়ে রামদেবের মন্তব্যের প্রতিবাদে আজ ‘কালা দিবস’ পালন চিকিৎসকদের।

কানাঘুষো আগেই শোনা যাচ্ছিল কয়লা কাণ্ডে জুন মাসেই চার্জশিট জমা দিতে পারে সিবিআই। নারদা মামলায় যেভাবে দ্রুত তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তাতে বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে কয়লা পাচারকাণ্ডে চার্জশিট জমা এখন সময়ের অপেক্ষা। সিবিআইয়ের একটি সূত্রে খবর, পুরুলিয়ার ব্যবসায়ী অনুপ মাঝি ওরফে লালা, যুব তৃণমূল নেতা বিনয় মিশ্র-সহ অন্তত এক ডজন নাম থাকতে পারে প্রথম চার্জশিটে। এমনিতে এই ধরনের বড় কেলেঙ্কারির তদন্তে একটি চার্জশিটই শেষ কথা নয়। প্রাথমিক ভাবে একটি চার্জশিট পেশ করার পর ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ও নতুন তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত এগোয়। ফলে প্রাথমিক চার্জশিট পেশ করার পর একাধিক সাপ্লিমেন্টরি চার্জশিট পেশ করে তদন্তকারী সংস্থা। এক্ষেত্রেও তেমন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

কয়লা কাণ্ডে চার্জশিট চলতি মাসেই? চার্জশিট পেশ করার আগে তৃণমূলের যুব নেতা বিনয় মিশ্রের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে উদ্যত হল সিবিআই। বিশেষ আদালতে বিনয় মিশ্রের বাড়ি, জমি এবং সম্পত্তি বাজেযাপ্ত করতে আবেদন করেছে সিবিআই। সিবিআইয়ের দায়ের করা প্রথম এফআইআরে বলাই হয়েছিল যে লালাই ছিল বেআইনি পাচার চক্রের মূল পাণ্ডা। তাকে মদত করত সরকারি কিছু আমলা ও প্রভাবশালীরা। ওই এফআইআর দায়ের করার পরই প্রভাবশালীদের খোঁজ শুরু হয়। প্রথমে বিনয় মিশ্রর বাড়িতে তল্লাশি চলে। তার পর রাজ্য জুড়ে বেশ কিছু ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীয় নিকট লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন সিবিআই গোয়েন্দারা।

সিবিআই সূত্রের মতে, বিনয়ের ভাই বিকাশ মিশ্র, ধৃত বাঁকুড়া থানার আইসি অশোক মিশ্র, ফেরার হয়ে থাকা লালার হিসেব রক্ষক নীরজ সিং, ব্যবসায়ী গণেশ বাগাড়িয়া, আসানসোলের বাসিন্দা লালা ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী বামাপদ দে এবং ব্যবসায়ী রণধীর বার্নওয়ালের নাম থাকতে পারে চার্জশিটে। এর মধ্যে যুব তৃণমূলের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক বিনয় মিশ্র ও গণেশ বাগাড়িয়ার নাগাল এখনও পায়নি সিবিআই। তবে গ্রেফতার হয়েছে বিকাশ মিশ্র ও বাঁকুড়া থানার ওসি অশোক মিশ্রকে। সিবিআই আদালতে আগেই জানিয়েছে এই অশোক মিশ্র ১০৯ দিনে ১৬৮ কোটি টাকা তুলেছিলেন।

তদন্তকারীরা বরাবরই আদালতে বলেছেন, অসাধু ব্যবসায়ী, পুলিশ, বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিক এবং রাজনৈতিক নেতাদের যোগসাজস না থাকলে এত বড় পাচার চক্র চালানো সম্ভব নয়। এখন দেখার নারদা মামলার পর কয়লা ও গরু পাচার কাণ্ড কোনদিকে মোড় নেয়।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর