নজরবন্দি ব্যুরোঃ শীতলকুচি কাণ্ডে এবার সিআইডির তলব রাজ্যের প্রাক্তন পুলিশ সুপারকে। ভোট চলাকালীন কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে কোচবিহারে শীতল্কুচিতে পাঁচ গ্রামবাসীর মৃত্যুর পরেই এই নিয়ে শুরু হয় চরম রাজনীতিক চাপানউতোর। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেসময় জানান তিনি এর শেষ দেখে ছাড়বেন। ক্ষমতায় ফিরলেই তদন্ত শুরু করবেন। তাই তৃতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েই তিনি সিআইডি কে এই ঘটনার তদন্তভার তুলে দেন।
আরও পড়ুনঃ পুরনো টুইট মুছলেন প্রণবপুত্র! তৃণমূলে অভিজিতের যোগদান কি শুধু সময়ের অপেক্ষা?


সেই মত এই ঘটনায় বিশেষ তদন্তদল সিট গঠন করে শুরু হয় তদন্ত। তারপর থেকেই এই ঘটনার তদন্তে একের পর এক পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের তলব করেছে সিআইডি। আর এবার কোচবিহারের প্রাক্তন পুলিশ সুপার দেবাশিস ধরকে তলব করল তদন্তকারী সংস্থা। আগামী ১৮ জুন সকাল সাড়ে ১১টায় প্রাক্তন পুলিশ সুপার দেবাশিস ধরকে তলব করেছে সিআইডি। প্রসঙ্গত এই ঘটনার পর রিপোর্ট দিয়েছিলেন কোচবিহারে তত্কালীন পুলিশ সুপার দেবাশিসবাবু। আত্মরক্ষার্থেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা গুলি চালিয়েছিলেন বলে তিনিও প্রাথমিক রিপোর্টে কমিশনকে জানিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে দেবাশিস ধরকে কোচবিহারের পুলিশ সুপারের পদ থেকে সরিয়ে দেয় রাজ্য। আর এবার ওই ঘটনার তদন্তে তাঁকে তলব করা হল।
প্রসঙ্গত সিট তদন্তে নেমে ২ অফিসার-সহ কেন্দ্রীয় বাহিনীর ৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠায়। করোনা পরিস্থিতির কথা জানিয়ে হাজিরা এড়ান কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। ভার্চুয়ালি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন জানান কেন্দ্রীয় বাহিনীর অভিযুক্ত ৬ জওয়ান। তবে তাঁদের সেই আবেদন নাকচ করে দেয় সিআইডি। ২ সিআইএসএফ অফিসার-সহ কেন্দ্রীয় বাহিনীর ৬ জন জওয়ানকে সিআইডি-র দফতরে সশরীরে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যে চতুর্থ দফায় ভোটের দিন কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওই ৬ জওয়ান কোচবিহারের শীতলকুচির ১২৬ নম্বর বুথের দায়িত্বে ছিলেন। জানা গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে একজন ডেপুটি কম্যাড্যান্ট, চারজন কনস্টেবল ও একজন ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার অফিসার রয়েছেন।
শীতলকুচি কাণ্ডে এবার সিআইডির তলব রাজ্যের প্রাক্তন পুলিশ সুপারকে। কোন পরিস্থিতিতে তঁদের ওই দিন গুলি চালাতে হয়েছিল, সেব্যাপারে তাঁদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চায় সিট। কী কারণে গুলি চালানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হল কথা বলে তা জওয়ানদের থেকে জেনে নিতে চান সিআইডি-র অফিসাররা। তাঁর আগে প্রাক্তন পুলিশ সুপারকে তলব যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।









