তিনবারের বিধায়ক, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা—তবু আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে দ্বিধায় অভিনেতা-রাজনীতিক চিরঞ্জিত চক্রবর্তী। বয়স ও শারীরিক সক্ষমতার কথা তুলে ধরে তিনি জানালেন, হয়তো আর ভোটের ময়দানে নামতে চান না। তবে দলনেত্রী ডাকলে সিদ্ধান্ত বদলাতেও পারেন—এমন ইঙ্গিতই দিলেন বর্ষীয়ান এই তৃণমূল বিধায়ক।
২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের সময় বারাসত কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে বিধানসভায় প্রবেশ করেন চিরঞ্জিত। তারপর ২০১৬ ও ২০২১—টানা তিনবার একই কেন্দ্র থেকে জিতে তিনি বিধায়ক হয়েছেন। ছাব্বিশের নির্বাচনে প্রার্থী হবেন কি না, সে প্রশ্নে তিনি খোলামেলাই নিজের অবস্থান জানিয়েছেন।
তাঁর কথায়, তিনটি টার্ম হয়ে গিয়েছে, সামনে চতুর্থ টার্মের সম্ভাবনা থাকলেও আগের মতো শক্তি আর নেই। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যে এনার্জি ছিল, তা কমে এসেছে বলেই মনে করছেন তিনি। সিনেমায় যেমন আগের মতো লড়াইয়ের দৃশ্যে অভিনয় করতে পারেন না, তেমনই রাজনীতির পরিশ্রমী কাজও আর আগের মতো করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে তাঁর।
চিরঞ্জিত বলেন, রাজনীতি অত্যন্ত পরিশ্রমের জায়গা এবং বড় দায়িত্বের কাজ। সেই দায়িত্ব যদি আর পুরোপুরি পালন করতে না পারেন, তা হলে সরে দাঁড়ানোই ভালো বলে মনে করছেন তিনি।
তবে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি তাঁকে ফের প্রার্থী হতে বলেন? এই প্রশ্নে চিরঞ্জিত জানান, নেত্রীর দূরদর্শিতার উপর তাঁর আস্থা রয়েছে। তাঁকে অস্বীকার করা কঠিন বলেই মনে করেন তিনি। নিজের ইচ্ছার কথা জানাতে পারেন, কিন্তু শেষ সিদ্ধান্ত দলের নেতৃত্বই নেবে—এমনটাই তাঁর ইঙ্গিত।
রাজনীতিতে আসার ইচ্ছা তাঁর আগে থেকেই ছিল না বলেও জানান চিরঞ্জিত। যা পেয়েছেন, তাতেই তিনি সন্তুষ্ট। দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সব ক্ষেত্রেই দুর্নীতি রয়েছে, তবে সবাই যে বিপথগামী, তা নয়—কিছু মানুষই এই পথে হাঁটছেন।
চিরঞ্জিতের এই মন্তব্যকে কটাক্ষ করেছেন বিজেপি নেতা সজল ঘোষ। তাঁর দাবি, প্রতি পাঁচ বছর অন্তরই চিরঞ্জিত বলেন রাজনীতি ছাড়বেন, কিন্তু ভোট এলেই আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তাঁর মতে, যদি নিজেই মনে করেন ব্যর্থ, তবে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়াই উচিত।



