Diabetes: আপনার খুদের খিদে পাচ্ছেনা? শিশুর ডায়াবেটিস হয়নি তো? জেনে নিন লক্ষণ

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ আপনার খুদের খিদে পাচ্ছেনা, ডায়াবেটিস জন্মের পর থেকে যেকোনো সময় হতে পারে। বড়দের ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসের হার বেশি হওয়ায় আমাদের কাছে ডায়াবেটিস বলতে মনের মধ্যে বড়দের কথাই সামনে প্রথম আসে। শিশুদের কথা মনেই পড়েনা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শিশুদের ডায়াবেটিসের ব্যাপারে সামাজিক সচেতনতার অভাব রয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই রোগ নির্ণয় করতে দেরি হয়ে যায়।  তাই শিশুদের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। শিশুদের বিভিন্ন ধরনের ডায়াবেটিস হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ দীর্ঘদিন গর্ভনিরোধক বড়ি খেলে জমে মেদ, বাড়ে গর্ভপাতের আশঙ্কাও, জানুন বিশদে

নবজাতক বা নিওনেটাল ডায়াবেটিস
এ ধরনের ডায়াবেটিস সাধারণত জন্মের পর থেকে ছয় মাস বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে হয়, যা সাধারণত একটি নির্দিষ্ট জেনেটিক মিউটেশন বা ত্রুটির কারণে হয়। এই ডায়াবেটিস কিছু ক্ষেত্রে সাময়িক হতে পারে, যা বড় হলে ভালো হয়ে যেতে পারে আবার অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটা স্থায়ী ডায়াবেটিসে রূপ নেয়।

আপনার খুদের খিদে পাচ্ছেনা? শিশুর ডায়াবেটিস হয়নি তো? জেনে নিন লক্ষণ
আপনার খুদের খিদে পাচ্ছেনা? শিশুর ডায়াবেটিস হয়নি তো? জেনে নিন লক্ষণ

টাইপ-১ বা জুভেনাইল ডায়াবেটিস
শিশুদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি হয় এ ধরনের ডায়াবেটিস। তবে বড়দেরও হতে পারে। অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন তৈরি প্রায় সম্পূর্ণভাবে অথবা পুরোপুরি ব্যাহত হওয়ার কারণে এ ধরনের ডায়াবেটিস হয়। আমাদের দেশে এ ধরনের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত প্রায় ১৭ হাজার মানুষ। প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হবে।

1 13

টাইপ-২ ডায়াবেটিস
শরীরে ইনসুলিন উৎপন্ন হওয়া সত্ত্বেও তা রেসিস্ট্যান্সের জন্য কোষে কাজ করতে না পারার কারণে এ ধরনের ডায়াবেটিস হয়ে থাকে। এ ধরনের ডায়াবেটিস সাধারণত বড়দের বেশি হয় এবং বিশ্বব্যাপী এ ডায়াবেটিসের হার সবচেয়ে বেশি। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে এ ধরনের ডায়াবেটিস আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোয় এ বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি। শিশুদের ডায়াবেটিস হলে বড়দের তুলনায় ডায়াবেটিস–সংক্রান্ত জটিলতা হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।

আপনার খুদের খিদে পাচ্ছেনা, শিশুর ডায়াবেটিস হয়নি তো, জেনে নিন লক্ষণ

3 13

শিশুদের ডায়াবেটিসের লক্ষণ
এ রোগের অন্যতম লক্ষণ হলো বেশি বেশি খিদে পাওয়া, অতিরিক্ত পিপাসা, ঘন ঘন প্রস্রাব, শিশুর শারীরিক বৃদ্ধিতে সমস্যা, ওজন হ্রাস পাওয়া, দীর্ঘস্থায়ী ঘা, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, শুষ্ক ত্বক, পা অবশ বোধ হওয়া বা ঝিমঝিম করা, মনোযোগ হ্রাস পাওয়া, উৎসাহ-উদ্দীপনা কমে যাওয়া, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পাওয়া, ঘন ঘন বমি, পেটের পীড়া ইত্যাদি। অনেক সময় বাচ্চাদের ডায়াবেটিসে কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না কিংবা মা-বাবা ব্যাপারটি খেয়াল করেন না। তাই বাচ্চাদের একটি বড় অংশ প্রথম অবস্থাতেই খিঁচুনি, পেটব্যথা, পানিশূন্যতা ও অজ্ঞান হয়ে অর্থাৎ কিটো এসিডোসিস নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। উল্লিখিত যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

শিশুদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ
বড়দের ডায়াবেটিস হলে নিজেরাই এর নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কিন্তু শিশুদের ক্ষেত্রে মা-বাবাকে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হয়। এ ক্ষেত্রে প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত ডায়াবেটিস প্রতিরোধের চেষ্টা করা। পরিবারের কারও ডায়াবেটিস থাকলে তার সন্তানেরও হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ক্ষেত্রে তাই সতর্ক থাকতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, প্রাথমিক অবস্থায় যেন শিশুর ডায়াবেটিস ধরা পড়ে। ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলো জানা থাকলে এ কাজ অনেক সহজ হয়।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর